জুন ২৪, ২০২১
MIMS TV
আন্তর্জাতিক এই মাত্র পাওয়া ব্রেকিং নিউজ

লিবিয়ার সংঘাত নিরসনে সই হল স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি

লিবিয়ার সংঘাত নিরসনে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই করেছে জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকার এবং পূর্বাঞ্চলীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাফতার বাহিনী। শুক্রবার জাতিসংঘের লিবিয়া বিষয়ক বিশেষদূত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

লিবিয়ার জাতিসংঘের সহযোগী মিশনের প্রধান স্টেফানি তুরকোস উইলিয়ামস জানান, লিবিয়ার পক্ষগুলো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে একমত হয়েছে। সারা দেশে এ চুক্তির শর্তাবলী বাস্তবায়ন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উইলিয়ামস বলেন, আজকের দিনটি লিবিয়ার নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। চুক্তি স্বাক্ষরের পর জাতিসংঘের লিবিয়া মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, লিবিয়ার নাগরিকদের জন্য সুসংবাদ।

মিশন আরো জানায়, জেনেভায় বিদ্রোহী এবং জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকারের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। বৈঠকে পুরো লিবিয়ায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায় সংঘাতে লিপ্ত পক্ষগুলো। গুরুত্বপূর্ণ এ চুক্তির মাধ্যমে লিবিয়ায় শান্তি এবং স্থিতিশীলতার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া সামনে এগিয়ে যাবে বলেও প্রত্যাশা জাতিসংঘের।

জাতিসংঘ স্বীকৃত গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল অ্যাকর্ড ( জেএনএ) এবং খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন পূর্বাঞ্চল ভিত্তিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির প্রতিনিধিদের মধ্যে আগামী মাস থেকে রাজনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের বিষয়ে তিউনেশিয়ায় আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী আগামী তিন মাসের মধ্যে বিদেশি সেনা এবাং ভাড়াটেদের লিবিয়া ত্যাগ করতে হবে।

ত্রিপোলি থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি মাহমুদ আবদেলওয়াহেদ জানান, যুদ্ধবিরতির সফলতা নির্ভর করবে অনেক কিছুর উপর। নতুন চুক্তি কতোটা বাস্তবায়ন হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কারণ অতীতে চুক্তি হয়েছে। সে চুক্তি লঙ্ঘনও হয়েছে। একে অপরকে দোষারোপ করেছে বিবদমান পক্ষগুলো।

আবদেলওয়াহেদ জানান, বিদেশি সেনা এবং বন্দি ইস্যু সমাধানও চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য জরুরি।

চুক্তির অংশ হিসেবে এক বছরের বেশি সময় পর ত্রিপোলি থেকে যাত্রীবাহী বিমান পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজিতে অবতরণ করেছে। চুক্তির পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন জাতিসংঘের উইলিয়ামস। বলেন, আজকের এ পর্যায়ে আসতে অনেক সময় লেগেছে। নি:সন্দেহে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। আপনাদের দেশপ্রেম আপনাদের এখানে নিয়ে এসেছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি সইয়ে সম্মত করেছে। চুক্তির ফলে বাস্তুচ্যুত এবং শরণার্থীরা তাদের বাড়িঘরে ফিরতে পারবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আল জাজিরার আবদেলওয়াহেদ জোর দিয়ে বলেন, সংঘাতের কারণে বহু মানুষকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। নিহত হয়েছেন অনেকে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ লাঘবকে প্রাধন্য দিয়ে বিবদমান পক্ষগুলোকে এক করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

চুক্তির ফলে সাধারণ মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় আগের থেকে মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন আবদেলওয়াহেদ।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর হাতে আটকের পর খুন হন লিবিয়ার শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি। তারপর গেলো ১০ বছর ধরে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত লিবিয়া। সশস্ত্রগোষ্ঠী, সামরিক বাহিনীতে বিরোধ, জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকার-  পরস্পর সংঘাতে জড়িয়েছে।

২০১৯ সালের এপ্রিলে রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিশরের সমর্থনে হাফতার বাহিনী ত্রিপোলি দখলে অভিযান শুরু করে। চলতি বছর জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকারকে তুরস্ক সর্বোচ্চ সমর্থন দিলে পিছু হটতে বাধ্য হয় বিদ্রোহীরা।

আগস্টে দু’পক্ষ সংঘাত বন্ধে আলাদা আলাদা ঘোষণা দেয়। তারপর থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী হতে থাকেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে তাদের চুক্তি অবাস্তব বলে মনে করছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান। ইস্তাম্বুলে জুমার নামাজের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ের কোনো চুক্তি নয়। সময় বলে দেবে এটা কতোটা স্থায়ী এবং কতোটা দুর্বল।

Related posts

গাজা পুনর্গঠনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সহায়তার প্রতিশ্রুতি

Irani Biswash

রেকর্ড তাপমাত্রায় নাভিশ্বাসে অস্ট্রেলিয়া, দাবানল ছড়িয়ে পরার আশংকা

শাহাদাৎ আশরাফ

রোহিঙ্গা সহায়তায় এলো ৬০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি : প্রত্যাবাসনই মূল সমাধান

শাহাদাৎ আশরাফ

Leave a Comment

Translate »