জুন ১৯, ২০২১
MIMS TV
মুনীরউদ্দিন আহমদ স্বাস্থ্য

ভিটামিন ডি ঘাটতি বিপজ্জনক হতে পারে

মুনীরউদ্দিন আহমদ
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ করোনা রোগীর মধ্যে ভিটামিন ডি ঘাটতি রয়েছে। ভিটামিন ডি ঘাটতির কারণে এসব রোগীর চিকিৎসা সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হয়নি, রোগীর সেরে উঠায় বিলম্ব ঘটেছে বা মারা গেছে। আরেক গবেষণায় দেখা গেছে- যাদের শরীরের পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি রয়েছে, তাদের অক্সিজেন গ্রহণের পরিমাণ কম লাগে।
ভিটামিন ডি শরীরের জন্য একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন। এই ভিটামিনের অভাবে শরীরে অনেক মেটাবলিক ডিজঅর্ডার তৈরি হয়। ভিটামিন ডি শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। শরীরের অত্যাবশকীয় উপকরণ ক্যালসিয়াম বিশোষণের জন্য ভিটামিন ডি প্রয়োজন।
ভিটামিন ডি এর অভাবে শরীরের হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, ভিটামিন ডি ঘাটতির কারণে হৃতপিন্ডের নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাসে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। করোনা সংক্রমণের ভয়ে যারা দীর্ঘ সময় ধরে বাসায় অবস্থান করেন বা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি ঘাটতি হওয়া স্বাভাবিক।
তাই তাদের ভিটামিন ডি ঘাটতি পূরণে সচেতন ও সচেষ্ট হওয়া একান্ত জরুরি। ভিটামিন ডি’র মূল উৎস সূর্যস্নান বা রোদে থাকা( উৎকৃষ্ট সময় সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ৩ টা)। আমাদের শরীরের চামড়ার সেল বা কোষের ভিতর থাকে কোলেস্টেরল।
সূর্যের আলোর আল্ট্টাভায়োলেট লাইট আমাদের চামড়ার ভিতর অবস্থিত কোলেস্টেরলকে ভেঙে ভিটামিন ডি২ এবং ডি৩ উৎপাদন করে। এই জন্য ভিটামিন ডি’কে সানশাইন ভিটামিনও বলা হয়। তাই পর্যাপ্ত সময়( অন্তত ৩০ মিনিট) সূর্যস্নান করলে বা রোদে থাকলে আমাদের ভিটামিন ডি ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। যারা দিনকে দিন সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকেন, তাদের ভিটামিন ডি ঘাটতি হতে বাধ্য। সূর্যস্নান করা না গেলে সেক্ষেত্রে করণীয় কি?
শরীরে ভিটামিন ডি ঘাটতি পূরণের জন্য আমাদের ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার নির্বাচন করতে হবে। কোন কোন খাবারে ভিটামিন ডি রয়েছে তা নিয়ে এখন দুকলম লিখি। ডিমের কুসুম(কোলেস্টেরলের ভয়ে ডিম খাওয়া বন্ধ করবেন না, বা কুসুম ফেলে দিয়ে ডিমের সাদা অংশ খাবেন না।
ডিম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে- এ ধরনের কথায় কান দেবেন না। এসব অশিক্ষিত ও অজ্ঞ লোকদের কথা ), দুধ, দই, অন্যান্য দুগ্ধসামগ্রী, বাটার, চিজ, তৈলাক্ত মাছ, মাছের লিভারের তেল( বাজারে বড় রুই বা কাতল মাছ কিনে কেটেকুটে বাসায় আনার সময় মনে করে মাছের তেলটা সাথে নিয়ে আসবেন। বেগুন দিয়ে রান্না করে এই তেল খাবেন। স্বাদও পাবেন, ভিটামিন ডি’ও পাবেন), স্যামন, টুনা, হেরিং মাছ, মাশরুম, ফলের রস, শস্যদানা ইত্যাদিতে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি রয়েছে। খাবার থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি ঘাটতি পূরণ করতে ব্যর্থ হলে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নেয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, ভিটামিন ডি ফ্যাট বা তৈলে দ্রবণীয় ভিটামিন।
এই ভিটামিন পানিতে দ্রবণীয় নয়। তাই মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে তা শরীরে জমে গিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। ভিটামিন ডি এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে- দুর্বলতা, মাথা ধরা, অনিদ্রা, অবসাদ, ক্ষুধা মন্দা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাত্রাতিরিক্ত ক্যালসিয়াম বিশোষণ, বমি বমি ভাব ইত্যাদি। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ভিটামিন ডি গ্রহণ করুন। একজন যুবক/যুবতীর জন্য প্রতিদিন ৬০০(১৫ মাইক্রোগ্রাম) ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট এবং একজন বয়স্ক (যেমন ৭০ বছর) মানুষের জন্য ৮০০(২০ মাইক্রোগ্রাম) ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট ভিটামিন ডি দরকার।
# মুনীরউদ্দিন আহমদ, প্রফেসর এন্ড হেড ডিপার্টম্যান্ট অব ফার্মেসী, ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

Related posts

করোনা আপডেট

Irani Biswash

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে আন্তর্জাতিক ইপিলেপ্সি দিবস পালিত

admin

ভ্যাকসিন পেতে অ্যাপসে নিবন্ধন করতে হবে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতি: মহাপরিচালক

admin

Leave a Comment

Translate »