জুন ১৮, ২০২১
MIMS TV
অর্থনীতি এই মাত্র পাওয়া জাতীয় প্রিয় লেখক বাংলাদেশ ব্রেকিং নিউজ মু: মাহবুবুর রহমান

স্বপ্নের পদ্মা সেতু : রইলো বাকি এক

মু: মাহবুবুর রহমান

পদ্মা সেতুর মোট ৪১ টি স্প্যানের মধ্যে শুক্রবার (৪ঠা ডিসেম্বর ২০২০) বসলো ৪০ তম স্প্যান। এখন আর একটি স্প্যান বসানো বাকি রয়েছে। শেষ স্প্যানটিও এ বছর বিজয়ের মাস – ডিসেম্বরেই বসানো হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আর ঐ স্প্যানটি বসলেই পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামোর রূপ পাবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

গত ২৭ নভেম্বর সেতুর ৩৯তম স্প্যান বসানোর সাত দিনের মাথায় ৪ ঠা ডিসেম্বর সকালে সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া অংশে মাঝ নদীতে ১১ ও ১২ নম্বর খুঁটিতে ৪০তম স্প্যানটি বাসানো হয়। আর এতে দৃশ্যমান হয় পদ্মাসেতুর ছয় কিলোমিটার। ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটিতে সর্বশেষ ৪১তম স্প্যানটি বসানো হলেই দৃশ্যমান হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জাজিরা প্রান্তের ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হওয়া শুরু করে পদ্মা সেতুর অবকাঠামো। এরপর একের পর এক খুঁটির ওপর বসানো হয় স্প্যান। এ সেতুর ৪২টি খুঁটির ওপর ৪১টি স্প্যান বসানো হচ্ছে। এরই মধ্যে জাজিরা প্রান্তে ২০টি এবং মাওয়া প্রান্তে ১৯টি স্প্যান বসানো হয়েছে। আর ৪ঠা ডিসেম্বর স্প্যানটি বসেছে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের মাঝখানে। আর এখন বাকি রইলো একটি স্প্যান বসানোর কাজ।

স্প্যান বাসানো ছাড়াও পদ্মাসেতুর অন্যান্য কাজও এগিয়ে চলছে। সেতুর সার্বিক কাজের অগ্রগতি সাড়ে ৮২ ভাগ, মূল সেতুর কাজের বাস্তবায়নের অগ্রগতি ৯১ ভাগ এবং সংযোগসড়ক ও সার্ভিস এরিয়ার বাস্তবায়ন শত ভাগ এগিয়েছে বলে জানা গেছে।

৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর স্প্যানের ওপরে চলবে যানবাহন। আর নিচে চলবে ট্রেন। স্প্যানের ওপরে সড়ক পথের জন্য ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব আর রেল চলাচলের জন্য ২ হাজার ৯৫৯ রেলওয়ে স্ল্যাব বসবে। আর রেলওয়ে স্ল্যাবের সাথে ১ হাজার ৩১২টি লোহার গার্ডার বসছে। পুরোদমে চলছে এসব বসানোর কাজ।

বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে চলছে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ। ২২ মিটার প্রস্থ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে সেতুর কাঠামো। মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড।

দোতলা পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ২০২১ সালেই তা যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

কাজেই পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। এক সময়ের স্বপ্ন, ধরা দিয়েছে দৃষ্টি সীমানায়। পদ্মা সেতু শুধু কংক্রিট ও স্টিলের সেতু নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের সব মানুষের আবেগ। বিশেষ করে দক্ষিন বঙ্গের মানুষের আবেগ- ভালোবাসা, যে দক্ষিণাঞ্চলে লঞ্চ ছাড়া যোগাযোগের তেমন কোনো উপায় ছিল না। আর এখন পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দক্ষিন বঙ্গে যাচ্ছে রেলওয়ে। সবমিলিয়ে পদ্মা সেতু যে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে তা তো বলাই যায়।

Related posts

প্রথম বাংলাদেশী হিসাবে রাশেদ শ্রাবন পেলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সম্মাননা

admin

ফিলিস্তিনিদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান

Irani Biswash

অধ্যাপক ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান মারা গেছেন

Irani Biswash

Leave a Comment

Translate »