জুন ১৯, ২০২১
MIMS TV
আন্তর্জাতিক এই মাত্র পাওয়া প্রিয় লেখক ব্রেকিং নিউজ মু: মাহবুবুর রহমান সংগঠন সংবাদ

বৈশ্বিক জলবায়ু জরুরি অবস্থা জারির আহবান জাতিসংঘের

মু: মাহবুবুর রহমান 

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতরেস বিশ্বের সকল দেশকে ‘জলবায়ু জরুরি অবস্থা’ জারির আহবান জানিয়েছেন। শনিবার (১২ ডিসেম্বর) প্যারিস জলবায়ু চুক্তির পঞ্চম বার্ষিকীতে আযোজিত ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে তিনি এ আহবান জানান। এ সময় তিনি প্রতিটি দেশকে কার্বন নিঃসরণ প্রতিশ্রুত মাত্রায় কমিয়ে আনারও আহবান জানান।

যুক্তরাজ্য, জাতিসংঘ ও ফ্রান্স যৌথভাব চিলি ও ইতালির অংশীদার সহযোগিতায় এই ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ৩৮ টি দেশ ইতোমধ্যে জলবায়ু জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। বিশ্বের বাকি দেশগুলোকে এ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহবান জানান তিনি। করোনা মহামারি পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ধনী দেশগুলো নিম্নমাত্রার কার্বন জ্বালানির তুলনায় জীবাশ্ম জ্বালানিতে ৫০ শতাংশের বেশি নগদ অর্থ ব্যয়ের সমালোচনা করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। উল্লেখ্য, বিশ্বের ৩৮ টি দেশের মধ্যে সর্বশেষ নিজের দেশে জলবায়ু জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতরেস তাঁর ভাষণে সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের বর্তমান প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যাপ্ত নয়। তিনি বলেন, ‘পথ পরিবর্তন না করলে আমরা চলতি শতকেই গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি দেখব, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ। এ কারণেই আজ আমি বিশ্বের সব নেতার প্রতি নিজ নিজ দেশে জলবায়ু জরুরি অবস্থা জারির আহবান জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নেমে এলেই কেবল জরুরি অবস্থা শেষ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১৫ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে স্বাক্ষরিত হয় প্যারিস জলবায়ু চুক্তি। এই চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বের দেশগুলো বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখতে লক্ষ্য নির্ধারণ করে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে এ পর্যন্ত খুব কমই অগ্রগতি হয়েছে। আর জাতিসংঘ বলেছে, চলতি শতকে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক কার্বন নিঃসরণের হার ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমাতে হবে।

অবশ্য চলমান করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে বিভিন্ন দেশ লকডাউন ও চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করায় এ বছর কার্বন নিঃসরণ কিছুটা কমেছে বলে গত সপ্তাহে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ সত্ত্বেও জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াটি কার্বন নিঃসরণমুক্ত করার সুযোগ নষ্ট করছে। তিনি বলেন, ‘জি–২০ (বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জোট) দেশগুলো অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার ৫০ শতাংশই জীবাশ্ম জ্বালানি–সংশ্লিষ্ট। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এসব সম্পদ ব্যবহারের নীতিতে হেঁটে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ভঙ্গুর এক পৃথিবীতে ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিতে পারি না।’

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ, চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরাঁ এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুজুপ্পে কোন্তের উদ্বোধনী ভাষণের মাধ্যমে সম্মেলনটি শুরু হয়।

এ বছর স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল জলবায়ু সম্মেলন বা ক্লাইমেট সামিট কপ-২৬। কিন্তু করোনার কারণে সেই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে। তার পরিবর্তে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ভার্চুয়াল সম্মেলন।  ভার্চুয়াল এই সভায় অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, রাশিয়া এবং মেক্সিকোসহ বেশ কয়েকটি দেশ অংশ নিচ্ছে না। ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রও অনুপস্থিত এ ভার্চুয়াল সম্মেলনে। তবে নব নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন  ঘোষণা করেছেন দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি তার দেশকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফিরিয়ে আনবেন।

  • মু: মাহবুবুর রহমান ; নিউজিল্যান্ডের মেসি ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক

Related posts

ফ্রান্স এর কর্মকান্ড সমর্থন করছে ভারত

শাহাদাৎ আশরাফ

বাংলাদেশে ৭ দিনে ৯ লাখ ৬ হাজার ৩৩ জনকে কোভিড-১৯ টিকা দেওয়া হয়েছে

admin

আহত গায়িকা বিউটির অবস্থা আশঙ্কাজনক

admin

Leave a Comment

Translate »