জুন ২২, ২০২১
MIMS TV
আন্তর্জাতিক এই মাত্র পাওয়া প্রিয় লেখক ব্রেকিং নিউজ মু: মাহবুবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন নির্বাচনের ফল আটকানোর সর্বশেষ চেষ্টায়ও ব্যর্থ ট্রাম্প

মু: মাহবুবুর রহমান

ক্ষমতায় থাকার জন্য, আরও চার বছর হোয়াইট হাউসে থেকে যাওয়ার জন্য এমন কোনো চেষ্টা নেই, যা ট্রাম্প ইতোমধ্যে করেননি। একের পর এক মামলা করেছেন, সেগুলো খারিজ হয়ে গেছে। ‘আমিই জিতেছি’ বলে টুইটের পর টুইট করেছেন এবং এখনো করছেন। বিভিন্ন আদালতে করা একাধিক মামলা প্রত্যাখাত হলেও ট্রাম্পের শেষ ভরসাস্থল ছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টেও প্রত্যাখ্যাত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের শেষ ভরসাস্থল ছিল সুপ্রিম কোর্ট এর কারণ হিসাবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের ৯ বিচারপতির মধ্যে এখন ৬ জনই রক্ষণশীল কিংবা রিপাবলিকান সমর্থক বলে পরিচিত। নির্বাচনের ঠিক আগেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি হিসেবে অ্যামি কোনি ব্যারেটকে নিয়োগ দেন। আর তাই ট্রাম্পের প্রত্যাশা ছিলো, তিনি সুপ্রিম কোর্টে সুবিধা পাবেন।

সুপ্রিম কোর্টে সুবিধা পাবেন এ আশায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার জন্যও সুপ্রিম কোর্টের প্রতি আহবান জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ১০ই ডিসেম্বর এক টুইটে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জালিয়াতির নির্বাচনের পর এবার সুপ্রিম কোর্টের সামনে সুযোগ এসেছে দেশকে রক্ষা করার। আশাকরি তারা এগিয়ে আসবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্ট সুপ্রিম কোর্টের প্রতি এমন আহবান জানান।

কিন্তু ট্রাম্পের আহবানে সারা দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। যুক্তরাষ্ট্রের চারটি ব্যাটলগ্রাউন্ড বলে পরিচিত রাজ্যে নির্বাচনের ফল পাল্টে দেয়ার অপ্রত্যাশিত আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। মার্কিন নির্বাচনের ভোটের ফল পাল্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে আনতে করা সবচেয়ে বড় মামলা ছিল এটি। মোট ১৯টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১২৭ জন রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যের সমর্থন ছিল ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট মামলার পেছনে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’খ্যাত চার অঙ্গরাজ্য— জর্জিয়া, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে টেক্সাসের আদালতে চলতি সপ্তাহে মামলাটি করা হয়। মামলার আর্জিতে বলা হয়েছিল জর্জিয়া, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া এবং উইসকনসিনের নির্বাচনের ফলাফল বৈধ না। ওই চার অঙ্গরাজ্যেই জো বাইডেন জিতেছেন। এছাড়াও মামলায় ইলেক্টোরাল ভোট গ্রহণের তারিখ পেছানো এবং এ নিয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়েছিল।

তবে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১১ ই ডিসেম্বর) ঐ মামলা খারিজ করে দেন উচ্চ আদালত (সুপ্রিম কোর্ট)। এদিন টেক্সাসের ওই মামলার ‘কোনো আইনি ভিত্তি নেই’ জানিয়ে সংক্ষিপ্ত আদেশে আবেদনটি খারিজ করে রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা। রায়ে নিজের মনোনয়ন দেওয়া তিন রক্ষণশীল বিচারপতিও ট্রাম্পের পক্ষে দাঁড়াননি।

মামলায় জর্জিয়া, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের দেয়া জবাব ট্রাম্পের পক্ষে যায়নি। ১০ ডিসেম্বর রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে দেয়া জবাবে চার অঙ্গরাজ্য ও টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রাম্পের নির্বাচনে কারচুপিসংক্রান্ত দাবিকে ভুয়া-ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন। এমন ভিত্তিহীন মামলা খারিজ করার জন্য তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানান।

কোনো রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে অন্যান্য রাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা করলে আইনে সুপ্রিম কোর্টে তা শুনানির জন্য গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। চার অঙ্গরাজ্য থেকে পাওয়া দীর্ঘ জবাব পর্যালোচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা সভা করেন। নয় বিচারপতির সম্মিলিত বিবেচনার পরই এক বাক্যের বেশি কিছু শব্দে দেওয়া আদেশে মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নেই বলে জানিয়ে দেয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্ট মামলা খারিজ করার কারণ হিসেবে বলেছে টেক্সাসের কোনো আইনি সক্ষমতা নেই মামলাটি করার। সর্বোচ্চ আদালত তাঁর আদেশে বলেছে ‘যখন অন্য একটি স্টেট তাদের নির্বাচন করে তখন টেক্সাসের সেই নির্বাচনে কোনো বিচারিক আগ্রহ থাকতে পারে না।’

সুপ্রিম কোর্টের এ আদেশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য আরও একটা ধাক্কা। এ আদেশের মাধ্যমে ১৪ ডিসেম্বর অঙ্গরাজ্য ইলেক্টোরাল কলেজের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে ভোট দিতে আর কোনো বাধা থাকলো না। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বর অঙ্গরাজ্য ইলেকটোরাল কলেজের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে ভোট প্রদানের কথা রয়েছে। অন্য কোনো নাটকীয়তা বা নজিরবিহীন কিছু না ঘটলে রাজ্য ইলেক্টোরাল ভোটের ৩০৬টি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের পাওয়ার কথা। নির্বাচনে জয়ের জন্য তাঁর ২৭০টি ইলেক্টোরাল ভোটের প্রয়োজন।

এর আগে পেনসিলভানিয়ায় জো বাইডেনের জয়ের বিরুদ্ধে করা আরেকটি মামলাও খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। জানা যায়, পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের ভোট গ্রহণে কারচুপি এবং ফল গণনায় অনিয়ম করা হয়েছে, এমন অভিযোগ এনে রাজ্যটির ফেডারেল আদালতে মামলা করে ট্রাম্প শিবির। এ নিয়ে যুক্ত-তর্ক আর তথ্য-উপাত্ত উদঘাটন শেষে অভিযোগের ভিত্তি না পেয়ে মামলাটি খারিজ করে দেন ফেডারেল বিচারক। তারপর সেই মামলা সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে  নিয়ে যায় ট্রাম্প শিবির। যা ৮ই ডিসেম্বর খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

যৌক্তিকভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের আর কোনো সম্ভাবনাই টিকে ছিলো না। তারপরও নির্বাচনের পর থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ করে আসছেন ট্রাম্প। মামলাও করেছেন অনেকগুলো। এর আগে তিনি কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই বলেছিলেন নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আর তাই শেষ ভরসাস্থল হিসাবে সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিলো ট্রাম্প শিবিরের পক্ষ থেকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সেখান থেকেও মামলা খারিজ করে ট্রাম্পের সম্ভাবনায় শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত।

মোদ্দা কথা, নির্বাচনের পর থেকেই ট্রাম্প এবং তার সমর্থকরা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে কয়েক ডজন মামলা করেছে। কিন্তু কোনোটায় জো বাইডেনের জয়কে উল্টে দেয়ার কাছাকাছি পর্যন্ত যেতে পারেনি ট্রাম্প শিবির। বরং সবগুলো মামলাতেই ট্রাম্প হেরেছেন। যা একজন প্রেসিডেন্টের জন্য লজ্জারও।

গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেন ৩০৬ ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। বিপরীতে ২৩২ ইলেকটোরাল ভোট পান রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া ভোটের হিসেবে বাইডেন ট্রাম্পের থেকে ৭০ লক্ষ ভোট বেশি পেয়েছেন।

Related posts

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইনোভেটিভ গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি’র উদ্বোধন

admin

সাইদা মুনা তাসনীম পেলেন ডব্লিওআইসিসিআই প্রদত্ত ডিপ্লোম্যাসি অ্যাওয়ার্ড

admin

ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে না

admin

Leave a Comment

Translate »