জুন ১৯, ২০২১
MIMS TV
এই মাত্র পাওয়া জাতীয় বাংলাদেশ ব্রেকিং নিউজ

কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক ও বাংলা একাডেমিসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গুণী এই ব্যক্তির প্রয়াণে শোকাহত সাংস্কৃতিক অঙ্গন।

বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন রোববার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন।  (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

সোমবার দুপুর ১২টায় সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রাবেয়া খাতুনের মরদেহ রাখা হবে। এরপর বিকেল ৩টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে তাঁকে।

জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের গঠনতন্ত্র পরিচালনা পরিষদের সদস্য, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরিবোর্ডের বিচারক, শিশু একাডেমির কাউন্সিল মেম্বার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘নতুন কুঁড়ি’র বিচারক।

লেখালেখির জন্যে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। এর মধ্যে আছে বাংলা একাডেমি পুরস্কার-১৯৭৩, হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার -১৯৮৯, একুশে পদক-১৯৯৩, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ -১৯৯৪, নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক-১৯৯৫, জসিমউদ্দিন পুরস্কার-১৯৯৬, শেরে বাংলা স্বর্ণপদক-১৯৯৬, শাপলা দোয়েল পুরস্কার-১৯৯৬, টেনাশিনাস পুরস্কার -১৯৯৭, ঋষিজ সাহিত্য পদক-১৯৯৮, অতীশ দীপঙ্কর পুরস্কার-১৯৯৮, লায়লা সামাদ পুরস্কার -১৯৯৯, অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার-১৯৯৯, মিলেনিয়াম অ্যাওয়ার্ড -২০০০, টেলিভিশন রিপোটার্স অ্যাওয়ার্ড -২০০১, বাংলাদেশ কালচারাল রিপোটার্স অ্যাওয়ার্ড -২০০২, শেলটেক পদক- ২০০২ এবং মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার-২০০৫ ইত্যাদি।

সাহিত্যের সকল শাখায় ছিল তাঁর সফল বিচরণ। তার প্রকাশিত শতাধিক গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে উপন্যাস, গবেষণাধর্মী রচনা, ছোটগল্প, ধর্মীয় কাহিনী, ভ্রমণকাহিনী, কিশোর উপন্যাস, স্মৃতিকথা ইত্যাদি। রেডিও, টিভিতে প্রচারিত হয়েছে রাবেয়া খাতুনের লেখা অসংখ্য নাটক, জীবন্তিকা ও সিরিজ নাটক।

তার গল্পে নির্মিত হয়েছে কয়েকটি চলচ্চিত্র। এ তালিকায় উল্লেখযোগ্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি ‘মেঘের পরে মেঘ’। এছাড়া ‘মধুমতি’ এবং ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ ছবি দুটি প্রশংসিত হয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা করেছেন রাবেয়া খাতুন। তাঁর নিজস্ব সম্পাদনায় পঞ্চাশ দশকে বের হতো ‘অঙ্গনা’ নামের একটি মাসিক পত্রিকা।

রাবেয়া খাতুন এর জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর মামার বাড়িতে। তার বাবার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর গ্রামে।

প্রসঙ্গত, ১৯৫২ সালের ২৩ জুলাই সম্পাদক ও চিত্র পরিচালক এটিএম ফজলুল হকের সাথে রাবেয়া খাতুনের বিয়ে হয়। বিশিষ্ট এই কথাসাহিত্যিকের চার সন্তান—ইমপ্রেস টেলিফিল্ম চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, রন্ধন বিশেষজ্ঞ কেকা ফেরদৌসী, স্থপতি ফরহাদুর রেজা প্রবাল ও ফারহানা কাকলী।

লেখালেখির পাশাপাশি রাবেয়া খাতুন শিক্ষকতা করেছেন। সাংবাদিকতাও করেছেন। এ ছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির কাউন্সিল মেম্বার।

 

 

 

Related posts

‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান ২’ নিয়ে বিতর্ক

Irani Biswash

বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ফ্রান্সের নাগরিকদের সতর্কবার্তা

শাহাদাৎ আশরাফ

বিমানবাহিনীর প্রধান হলেন শেখ আব্দুল হান্নান

Irani Biswash

Leave a Comment

Translate »