জুন ১৯, ২০২১
MIMS TV
আন্তর্জাতিক এই মাত্র পাওয়া প্রিয় লেখক ব্রেকিং নিউজ মু: মাহবুবুর রহমান

সেনা অভিযানে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি আটক

মু: মাহবুবুর রহমান

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি, দেশটির রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট ও ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (০১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সেনাবাহিনীর অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

এনএলডির এক মুখপাত্র মিও নয়েন্ট বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘‘অং সান সু চি, রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সোমবার ভোরে চালানো সেনাবাহিনীর এক অভিযানে আটক করা হয়।’’  তবে এই ঘটনার পর দেশের জনগণকে মাথা গরম করে কোনো কাজ করতে নিষেধ করেছেন উইন মিন্ট। তিনি সবাইকে আইন অনুযায়ী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার আহবানও জানিয়েছেন।

বিবিসির দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সংবাদদাতা জনাথন হেড জানান, মিয়ানমারের রাজধানী নাইপিদো এবং প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় সৈন্যরা নেমে পড়েছে। আর বিবিসির বার্মিজ সার্ভিসের খবরে বলা হয়েছে, নাইপিদোতে টেলিফোন ও ইন্টারনেট লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।

দেশটির বেসামরিক সরকার ও প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর মধ্যে কয়েকদিন ধরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার পর এমন ঘটনা ঘটল। গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। তবে ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তোলে দেশটির সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। এবার সেই অভিযোগেই অভিযান চালিয়ে সু চিসহ এনএলডির শীর্ষ নেতাদের আটক করা হলো বলে জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।

গত বছরের নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সু চির এনএলডি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে ৩২২টি আসনই যথেষ্ট, সেখানে এনএলডি পেয়েছে ৩৪৬টি আসন। তবে সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনী সমর্থিত দল নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ করে। নবনির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশন সোমবার (০১ ফেব্রুয়ারি) বসার কথা থাকলেও ঐদিনই শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হলো।

গত সপ্তাহে সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন বলেন, সেনাবাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাইয়াং যৌক্তিকভাবে নির্বাচনের জালিয়াতিকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতারণার’ অভিযোগ নিয়ে মিয়ানমারে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে তার সমাধান না হলে ‘ব্যবস্থা নেয়ার’ পরিকল্পনা আছে তাদের। এটি কি অভ্যুত্থান হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র ‘সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না’ বলে মন্তব্য করলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।

এরপর গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও মিয়ানমারে অবস্থিত পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাস দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে সেনা হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানায়। যদিও পরের দিনই দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে অভ্যুত্থানের আশঙ্কা নাকচ করে বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সংবিধান মেনে আইন অনুযায়ী কাজ করবে।

১৯৬২ সালের এক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমার (বার্মা) টানা ৪৯ বছর সামরিক বাহিনীর হাতে শাসিত হয়েছে। ২০১৫ সালে ঐতিহাসিক এক নির্বাচনে সু চি’র দল ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়ে প্রায় পাঁচ দশকের সামরিক শাসনের অবসান ঘটায়। এরপর ২০২০ সালের নভেম্বরের নির্বাচনেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি)। কিন্তু গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করা মিয়ানমারের ওপর আবারো কি সামরিক শাসনের খড়গ নেমে আসতে যাচ্ছে? সে প্রশ্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে অং সান সু চি’র দল এনএলডি ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যার ক্ষেত্রে তার নীরব সমর্থনের কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সু চি ও তার দলের ভাবমূর্তির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনায় ২০১৯ সালে অং সান সু চিকে আন্তর্জাতিক আদালতেও (আইসিজে) হাজির হতে হয়েছিল। আর আইসিজেতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন অং সান সু চি।

Related posts

সামাজিক দূরত্ব মেনে পালিত হলো কাতারের ঈদ উৎসব

Irani Biswash

রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে ভাসানচর যাত্রা

admin

র‌্যাবের উপহার পেল ৪ হাজার দুস্থ মানুষ

Irani Biswash

Leave a Comment

Translate »