জুন ১৯, ২০২১
MIMS TV
এই মাত্র পাওয়া কোভিড ১৯ জীবনধারা প্রিয় লেখক বাংলাদেশ ব্রেকিং নিউজ মু: মাহবুবুর রহমান স্বাস্থ্য

করোনার চেয়ে ৩৬ গুণ বেশি মৃত্যু হৃদরোগে, দ্বিগুনের বেশি মৃত্যু আত্মহত্যায়

মু: মাহবুবুর রহমান

মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে যত মানুষ মারা গেছে, তার চেয়ে ৩৬ গুণ বেশি মারা গেছে হৃদরোগে আর করোনার চেয়ে দ্বিগুনের বেশি মানুষ মারা গেছে আত্মহত্যায়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপে উঠে এসেছে এই তথ্য। বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ভবনে ‘স্টেকহোল্ডার (মিডিয়া) কনসালটেশন ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ তথ্য জানান পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী।

কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার, বাংলাদেশ বেতারের উপ মহাপরিচালক, বার্তা (ডিডিজি, নিউজ) এ এস এম জাহীদ। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিবিএস মহাপরিচালক মো. তাজুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সবার মধ্যে একটা উপলব্ধি কাজ করে যে করোনায় অনেক বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু পারসেপশন (ধারণা) সব সময় সঠিক হয় না। করোনার চেয়েও বেশি মানুষ মারা গেছে হৃদরোগে ও আত্মহত্যায়।’

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব বলেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এই ৯ মাসের সঙ্গে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর (করোনাকালীন সময়) এই ৯ মাসে দেশে বিভিন্ন রোগে কত মানুষ মারা গেছে, তা নিয়ে জরিপ পরিচালনা করে বিবিএস। ইয়ামিন চৌধুরী জানান, ৯ মাসের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ওই সময় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫ হাজার ২ জন। যেখানে হার্ট অ্যাটাকে এবং হার্টের অসুখে মারা গেছে ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ আর এই সময়ে আত্মহত্যায় মারা গেছে ১১ হাজার মানুষ।

 ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা শুধু করোনার পেছনেই দৌড়েছি। কিন্তু আমাদের অন্যান্য বিষয়েও যে নজর দেওয়া দরকার, করোনার জন্য হয়তো সেগুলোতে গুরুত্ব দিচ্ছি না। সেসব ক্ষেত্রে আমরা যদি গুরুত্ব না দেই, তাহলে কিন্তু আমাদের অন্যান্য রোগী বেড়ে যাবে। এই তথ্যগুলো জানানো বিবিএসের দায়িত্ব।’

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) এক ভার্চুয়াল সভায় জানানো হয়, মার্চ ২০২০ থেকে নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন এক হাজার ৫৮ জন মানুষ। অন্যদিকে ২০১৯ সালের জুন থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২০ এই নয় মাসে এ সংখ্যা ছিল ৯৪০ জন। অর্থাৎ করোনাকালীন ৯ মাসে আত্মহত্যার হার বেড়ে গিয়েছিলো ১৩ শতাংশ।

বৃহস্পতিবারের কর্মশালায় জানানো হয়, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যভাণ্ডার (ডাটাবেজ) তৈরি করবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এই ডাটাবেজে সকল নাগরিকের আলাদা আলাদা তথ্য যুক্ত থাকবে। বিবিএস ডাটাবেজ তৈরির জন্য ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্ট্রার ((এনপিআর) তৈরি করবে বলেও কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়।

কর্মশালায় বিবিএসের উপ-মহাপরিচালক ঘোষ সুব্রত স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং বিবিএসের পরিচালক আবদুল কাদের মিয়া ‘কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) : মূল্যস্ফীতির হার এবং মজুরি হার সূচক (ডব্লিউআরআই) : বাংলাদেশে অনুশীলন’ এর মূলভাব উপস্থাপন করেন। কর্মশালায় জানানো হয়, সরকারের বিভিন্ন সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে বেশ কিছু দিন যাবৎ বাংলাদেশে একটি সুস্থ মুদ্রাস্ফীতি চলমান রয়েছে।

Related posts

করোনা আপডেট, মৃত্যু ৩৬

Irani Biswash

ইংল্যান্ডে নতুন রূপে করোনাভাইরাস- বড়দিনে কঠোর সতর্কতা

admin

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলেই জেল-জরিমানা

admin

Leave a Comment

Translate »