জুন ১৯, ২০২১
MIMS TV
এই মাত্র পাওয়া কোলকাতা চ্যাপ্টার নারী প্রিয় লেখক বিনোদন ব্রেকিং নিউজ মু: মাহবুবুর রহমান

অটোরিক্সা চালকের মেয়ে থেকে মিস ইন্ডিয়া ২০২০ রানার আপ

মু: মাহবুবুর রহমান

‘নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন, স্বপ্ন সফল হবেই’ – একথা আবারো প্রমান করলেন মিস ইন্ডিয়া ২০২০ এর দ্বিতীয় রানার আপ মান্যা সিং। শোবিজ দুনিয়ার গ্ল্যামার দেখে আমাদের বিশ্বাস যে, আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের মেয়েরাই সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে থাকে। তবে সেই ধারণাকে একেবারে পাল্টে দিয়েছেন পেশায় অটোরিক্সা চালক বাবার মেয়ে মান্যা সিং। ভারতের উত্তরপ্রদেশের মেয়ে মান্যা সিং প্রমাণ করেছেন যে, বড় স্বপ্ন দেখাটা জরুরি, সেখানে দারিদ্র্য একটা বাঁধা বটে তবে সেটাকে জয় করে সফলতা ছিনিয়ে আনাও সম্ভব।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া ২০২০ এ মিস ইন্ডিয়া হয়েছেন তেলেঙ্গানার ইঞ্জিনিয়ার মানসা বারাণসী, দ্বিতীয় (প্রথম রানার আপ) হয়েছেন হরিয়ানার মণিকা শেওকান্দ আর তৃতীয় (দ্বিতীয় রানার আপ) হয়েছেন মান্যা সিং। তবে আজ কথা বলবো মান্যা সিংকে নিয়ে কারণ তাঁর লড়াইটা বাকিদের থেকে একটু আলাদা।

মিস ইন্ডিয়া দ্বিতীয় রানার আপ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন মান্যা সিং (Manya singh)। সংবাদমাধ্যমের অসংখ্য কৌতূহলী চোখের সামনে তিনি জানিয়েছেন তাঁর হার না মানা জীবনযুদ্ধের কাহিনী।

ভারতের উত্তর প্রদেশের কুশিনগরের মেয়ে মান্যা সিং। যদিও তাঁর জন্ম হয়েছিল মুম্বাইয়ে। মান্যার বাবা একজন অটোরিক্সা চালক।

এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন সম্পর্কে বলতে গিয়ে মান্যা বলেন, ‘আমার রক্ত, ঘাম এবং চোখের জলই আমাকে স্বপ্ন দেখতে সাহস জুগিয়েছে। অটো চালকের মেয়ে হওয়ার দরুন স্কুলে বেশিদিন পড়ার সুযোগ হয়নি। ১৪ বছর বয়স থেকেই কাজ শুরু করি।’ মান্যা সিং জানান, অভাবের জেরে এক সময় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তাঁর স্কুলে যাওয়া। তার পড়াশোনার টাকা দিতে টুকিটাকি যা সোনার গয়না ছিল একে একে সবই বন্ধক রেখেছিলেন তার মা। তার জন্য তার মা অনেক কিছু সহ্য করেছেন বলে জানান মান্যা সিং।

১৪ বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে মুম্বাই চলে যান মান‍্যা। মুম্বাইয়ের কান্দিভলীতে জন্মেছিলেন মান্যা। আর তাই প্রথমে তিনি সেই এলাকাতেই গিয়েছিলেন। বাবা-মাকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে এবং নিজের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি মুম্বাই যান। সেই সময় নিজের খরচ চালানোর জন্য প্রথমে একটি পিৎজার দোকানে হাউসকিপিং-এর কাজ করতেন মান‍্যা। এরপর একটি কল সেন্টারে কাজ পান তিনি।

সাক্ষাৎকারে মান্যা বলেন, ‘আমি এমনকী ঘরে ঘরে বাসনও ধুয়েছি। এমনও দিন গিয়েছে, যখন আমাকে অন্যের জুতো পরিষ্কার করতে হয়েছে।’ মান্যা সিং জানান, তিনি স্বপ্ন দেখতেন সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার। সেই কারণে, তিনি নিজের কথা বলার ধরনকে আরও ধারালো করতে চাইছিলেন। কল সেন্টারে কাজ করার ফলে তাঁর আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে যায় বলে জানান তিনি।

মান্যা সিং বলেন, ‘পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমি কখনই হাল ছাড়ব না বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম।’ শত প্রতিকূলতা ও বাধা-বিপত্তি সত্যেও, স্বপ্ন দেখতে ভোলেননি তিনি। মান্যা স্বপ্ন দেখতেন সেরা সুন্দরী হওয়ার। আর তাই, এতো বছর পর হলেও তাঁর স্বপ্ন সত্যি হয়েছে, তিনি এখন ভিএলসিসি ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া রানার-আপ। মান্যা সিং, এক সত্যিকারের মিস ইন্ডিয়া যিনি প্রমাণ করে দিলেন দিনের শেষে আত্মবিশ্বাসীরাই জয়ী হয়।

মিস ইন্ডিয়া রানার-আপ হওয়ার পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি  মান্যা সিং তাঁর পুরোনো কলেজ মুম্বাইয়ের ‘ঠাকুর কলেজ অফ সায়েন্স অ্যান্ড কমার্স’-এ গিয়েছিলেন এক সংবর্ধনা সভায় যোগ দিতে। বাবা ওমপ্রকাশ সিংয়ের অটোঅটোরিক্সাতে চেপেই সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেন মান্যা সিং। মিস ইন্ডিয়ার মুকুট মাথায় দিয়ে কোনো দামি গাড়িতে চেপে নয় বরং বাবার অটোতে এসে মান্যা সিংবুঝিয়ে দিলেন তাঁর সাফল্যের পিছনে বাবা-মায়ের অবদানের কথা। সংবর্ধনা সভায় নিজের মাথার মুকুট প্রথমে মায়ের মাথায় ও পরে বাবার মাথায় পরিয়ে বাবা মাকে সম্মান জানায় মিস ইন্ডিয়া মান্যা সিং।

লেখা শেষ করবো মান্যা সিংয়ের মা মনোরমা দেবীর মন্তব্য দিয়ে। সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমকে মনোরমা দেবী বলেন, ‘মান্যার মতো মেয়ে পেয়ে আমি গর্বিত। স্বপ্ন পূরণের জন্য ওর লড়াইটা আমি দেখেছি। সব বাবা-মাকেই বলব, ছেলে-মেয়েদের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে উৎসাহ জোগান। সন্তানের  স্বপ্নপূরণে বাবা-মায়ের সমর্থন খুবই প্রয়োজন।’

# মু: মাহবুবুর রহমান ; নিউজিল্যান্ডের মেসি ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক

Related posts

৫ দিনের রিমান্ডে প্রাক্তন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার

Irani Biswash

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র

শাহাদাৎ আশরাফ

পরীমনির বিরুদ্ধে গুলশান অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাংচুরের অভিযোগ

Irani Biswash

Leave a Comment

Translate »