জুন ২২, ২০২১
MIMS TV
এই মাত্র পাওয়া ব্রেকিং নিউজ যুক্তরাষ্ট্র শিক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইনোভেটিভ গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি’র উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ভার্জিনিয়ায় বাংলাদেশি প্রকৌশলী আবুবকর হানিপের মালিকানাধীন ‘ইনোভেটিভ গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি’র উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

ইনোভেটিভ গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে এই ইউনিভার্সিটি চালুর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায়ের সংযোজন ঘটলো।’

ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, মার্কিনে বাঙালির স্বপ্নসারথী হয়ে আবির্ভূত হলো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায়ের সংযোজন ঘটলো যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশ্ববিদ্যালয় চালুর মধ্য দিয়ে।

তিনি আরো বলেন, বহুজাতিক এ সমাজে প্রবাসীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই শুধু নয়, বাংলাদেশের উদ্যমী এবং মেধাবিদের দক্ষ হিসেবে গড়ে উঠার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের যে পাঠক্রম তা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উচ্চ বেতনে চাকরির পথ সুগম করবে। যতো বেশি বাংলাদেশি বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরি পাবে ততোবেশি অর্থ যাবে বাংলাদেশে এবং ইতোমধ্যেই তার প্রমাণ মিলতে শুরু করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, অভিবাসী সমাজের স্বপ্ন পূরণে অন্যতম প্রধান অবলম্বন হচ্ছে দক্ষ হিসেবে শিক্ষালাভ করা। বাংলাদেশের এক কোটি ২৩ লাখেরও অধিক মানুষ এখন বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন। তারা যদি আন্তর্জাতিক মানের চাকরির উপযোগী শিক্ষালাভে সক্ষম হন তাহলে বাংলাদেশই প্রকারান্তরে উপকৃত হবে।

বাঙালিরা খুবই সৌভাগ্যবান এজন্যে যে, শেখ হাসিনার মতো একজন নেতা পেয়েছি আমরা উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, তার দূরদর্শীতাপূর্ণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বে উন্নয়নের মডেল।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে  ২৭ ফেব্রুয়ারি, শনিবার উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম, সামিট গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদ খান, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার, ইনোভেটিভ গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি’র শিক্ষক, পরিচালকমন্ডলী, শিক্ষার্থীবৃন্দ। এছাড়াও ভিডিওতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের  সদস্য ড. সাজ্জাদ হোসেন, জর্জিয়া স্টেট সিনেটর শেখ রহমান এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা ড. নীনা আহমেদ।

ইনোভেটিভ গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি’র চ্যান্সেলর এবং সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাও দেওয়া হবে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে, যাতে গ্র্যাজুয়েশনের সাথে সাথেই চাকরি পান সকলে। যুক্তরাষ্ট্রে অসংখ্য শিক্ষার্ধী ব্যাচেলর এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করেও মাসের পর মাস চাকরি পান না। কারণ, অনেক দপ্তরেই পূর্ব অভিজ্ঞতা লাগে। আইটি সেক্টরে চাকরি কখনোই মেলে না অভিজ্ঞতা না থাকলে। এই ইউনিভার্সিটিতে সে ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই অনুমতি সংগ্রহ করা হয়েছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ইউনিভার্সিটি তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসায় প্রশাসন, প্রোজেক্ট এবং হেল্থকেয়ার ম্যানেজমেন্টে যথেষ্ঠ সুনাম কুড়িয়েছে। চলতি বছর এর মালিকানাসহ সামগ্রিক ব্যবস্থায় আমরা এসেছি। তাই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যাতে অবাধে ভর্তির সুযোগ পান সে চেষ্টা থাকবে।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের নামে দুটি স্কলারশিপ ঘোষণা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীরা এর একটি ব্যাচেলর এবং আরেকটি মাস্টার্স কোর্সের জন্য পাবেন। অর্থাৎ পুরো কোর্সের ৭৫% বৃত্তি দেওয়া হবে। এর বাইরেও রয়েছে আরও দু’লাখ ডলারের স্কলারশিপ বাংলাদেশ থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে। এই স্কলারশিপের জন্যে আবেদন করা যাবে www.igu.edu ওয়েবসাইটে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে ইউনিভার্সিটি পরিচালনা পর্ষদের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) ফারহানা হানিপ বলেন, গত দেড় দশকেরও অধিক সময়ে ‘পিপল এন টেক’র মাধ্যমে আমরা সংক্ষিপ্ত কোর্স দিয়ে মার্কিন আইটি সেক্টরে সাত হাজারের অধিক প্রবাসীকে উচ্চ বেতনে চাকরির পথ সুগম করেছি। সে অভিজ্ঞতায় আইটি, হেল্থ, হিসাববিজ্ঞান এবং ব্যবসায় প্রশাসনে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স কোর্সের সাথেই কারিগারি শিক্ষা দেওয়া হবে। সেটিই হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানের বিশেষত্ব।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও যাতে এই প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহে ভালো বেতনে চাকরি পান, সে জন্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট সকলকে।

ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অধ্যাপক এপাসটলোস ইলিয়পলাসের উপস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে ড. মোমেনকে ‘প্রক্লেমেশন’ দেওয়া হয় বাংলাদেশের সুনাম আন্তর্জাতিক অঙ্গিনে ছড়িয়ে দিতে নিরলসভাবে কাজের জন্য। এরপর করতালির মধ্যে কেক ও ফিতা কেটে যুক্তরাষ্ট্রের বাঙালিদের জন্যে নয়া ইতিহাসের শুভ সূচনা ঘটানো হয়। করোনা মহামারির কারণে সামাজিক দূরত্ব মেনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিও পরিণত হয় আনন্দকেন্দ্রে।

উল্লেখ্য, ১৫ লাখের অধিক বাংলাদেশি রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। অনেকেই বিভিন্ন কর্পোরেশনের মালিক, শীর্ষ কর্মকর্তা, ভাইস চ্যান্সেলরও রয়েছেন কয়েকজন। তবে এই প্রথম কোন বাংলাদেশি আমেরিকানের মালিকানায় পূর্ণাঙ্গ একটি ইউনিভার্সিটি চালু হলো।

প্রসঙ্গত, আইজিইউ যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন, ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, স্টেট কাউন্সিল অব হায়ার এডুকেশন ফর ভার্জিনিয়া, ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর স্টেট অথরাইজেশন রিসিপ্রোসিটি এগ্রিমেন্টস, অ্যাক্রিডেটিং কমিশন অব ক্যারিয়ার স্কুলস অ্যান্ড কলেজ-এসিসিএসসি সার্টিফিকেট প্রাপ্ত। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) এর আলোকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আই-২০’ ইস্যুর জন্য ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস), মার্কিন সরকারের জে-১ প্রোগ্রাম পরিচালনার জন্য ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড এর জন্য এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের অনুমোদন রয়েছে আইজিইউ’র।

 

 

Related posts

বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা পুনর্নির্ধারণ

admin

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অধ্যাদেশ জারি

admin

বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড

admin

Leave a Comment

Translate »