অগাস্ট ৪, ২০২১
MIMS TV
আন্তর্জাতিক এই মাত্র পাওয়া কোভিড ১৯ প্রিয় লেখক ব্রেকিং নিউজ মু: মাহবুবুর রহমান স্বাস্থ্য

করোনার টিকার ন্যায্য বণ্টন নিয়ে বিশ্ব ভয়াবহ নৈতিক ব্যর্থতার মুখে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মু: মাহবুবুর রহমান

করোনাভাইরাসের টিকার ন্যায্য বণ্টন ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এটাকে ‘বিপর্যয়কর নৈতিক ব্যর্থতা’ বলে উল্লেখ করেছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও টিকা উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে বিশ্বব্যাপী সুষ্ঠুভাবে টিকা বিতরণ করার আহবান জানিয়েছেন।

ডব্লিউএইচও’র নির্বাহী বোর্ডের বার্ষিক এক ভার্চুয়াল বৈঠকে সোমবার (১৮ জানুয়ারী) সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেন, ‘‘বিপর্যয়কর নৈতিক ব্যর্থতার দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব। এই ব্যর্থতার মূল্য দিতে হবে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর মানুষকে।’’ বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর অধিবাসীদের জীবন ও জীবিকা দিয়ে এই ব্যর্থতার মূল্য দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, বিশ্বের ৪৯টি ধনী দেশে ইতিমধ্যে ৩৯ মিলিয়ন (তিন কোটি ৯০ লাখ) ডোজের বেশি করোনার টিকা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, একটি গরিব দেশে মাত্র ২৫ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। ২৫ মিলিয়ন নয়, ২৫ হাজারও নয়, মাত্র ২৫টি।

ধনী দেশগুলোর ‘আমিই প্রথম’(Me first) দৃষ্টিভঙ্গির তীব্র সমালোচনা করেন তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস। তিনি বলেন, ‘‘এই নীতি আত্মঘাতী হবে। কারণ, এই নীতি টিকার দাম বাড়িয়ে দেবে। টিকার মজুতকে উৎসাহিত করবে।’’ এসব কর্মকাণ্ড মহামারিকে কেবল দীর্ঘায়িতই করবে বলেও মত দেন তিনি। এইচ১এন১ এবং এইচআইভি মহামারী মোকাবেলায় বিশ্ব যে ভুল করেছে সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার আহবান জানান গেব্রেয়াসুস।

টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেন, করোনাভাইরাস উদ্ভবের এক বছরের মধ্যে টিকা আবিস্কার ছিল একটি বিস্ময়কর অর্জন এবং বহুল প্রত্যাশিত আশার উৎস। কিন্তু দরিদ্র দেশগুলোর স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রবীণদের আগে ধনী দেশগুলোর তরুণ ও স্বাস্থ্যবান যুবকদের টিকা দেয়া সঠিক কাজ নয়।

ডব্লিউএইচও প্রধান আরো বলেন, ধনী দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বচ্ছ হওয়া উচিত এবং তারা কত টিকা, কী দামে, কখন পাবে- তা জানানো দরকার। তাদের নিজেদের স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়ার পর বাকি ডোজগুলো টিকার বৈশ্বিক জোট কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ভাগাভাগি করা উচিত।

গরিব দেশগুলোও যাতে টিকা পায়, সেই লক্ষ্যেই গত এপ্রিলে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনস গ্লোবাল অ্যাকসেস ফ্যাসিলিটি বা কোভ্যাক্স নামের প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হয়, যাতে অর্থায়ন করছে বিভিন্ন দাতা দেশ, বিশ্ব ব্যাংকের মত বহুজাতিক সংস্থা এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের মত দাতব্য সংস্থা।

‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস (গ্যাভি) এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস ( সিইপিআই) এর নেতৃত্বাধীন কোভ্যাক্স জোট নতুন বছরে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ৯২টি দেশে ১৩০ কোটি ডোজ টিকা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে। এখন পর্যন্ত কোভ্যাক্স কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্বের কমপক্ষে ১৮০টি দেশ।

এরই মধ্যে কোভ্যাক্স ২০০ কোটি ডোজ করোনা টিকা সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে। আরো ১০০ কোটি টিকা পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন ডব্লিউএইচও প্রধান। এর ফলে ফেব্রুয়ারি থেকে কোভ্যাক্স টিকা বিতরণ শুরু করবে বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার টিকা অনুমোদন পেয়েছে। জোরেশোরে এসব দেশে টিকা দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উদ্বেগের সঙ্গে বলছে, বিশ্বের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো এখনো করোনাভাইরাসের টিকা পায়নি। সংস্থাটি বারবার করোনার টিকার ন্যায্য বণ্টনের আহবান জানিয়ে যাচ্ছে।

Related posts

ভালবাসার চাবিকাঠি : ডা. শাহনাজ পারভিন

শাহাদাৎ আশরাফ

ইতালিতে ঈদুল ফিতর পালিত

Irani Biswash

ট্রাম্পের কাছ থেকে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি নেই

Mims tv : Powered by information

Leave a Comment

Translate »