জুলাই ৩১, ২০২১
MIMS TV
এই মাত্র পাওয়া প্রিয় লেখক বাংলাদেশ ব্রেকিং নিউজ মু: মাহবুবুর রহমান সাহিত্য

বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক মডেল অনুসরণের পরামর্শ নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের

মু: মাহবুবুর রহমান

মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অর্থনৈতিক মডেল প্রস্তুত করেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করা গেলে অনেক আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী ভারতীয় বাঙালি অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‌‘বঙ্গবন্ধু লেকচার সিরিজ’-এর দ্বিতীয় লেকচার এর ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বুধবার (২৭ জানুয়ারী) লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস (এলএসই) দক্ষিণ এশিয়া কেন্দ্র ও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত ভার্চ্যুয়াল এই লেকচার অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে বাংলাদেশের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারপারসন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এলএসইর পরিচালক মিনুশে শফিক। সঞ্চালক ছিলেন এলএসইর দক্ষিণ এশিয়া কেন্দ্রের পরিচালক আলনুর ভিমানি।

অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের বক্তব্যের শিরোনাম ‘বঙ্গবন্ধু অ্যান্ড ভিশনস অব বাংলাদেশ’ যার বাংলা করলে দাড়ায় ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের রূপকল্প’। এতে অর্মত্য সেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রচিন্তা ও সমতাভিত্তিক জাতি গঠনের দর্শনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

মূল বক্তব্যে অমর্ত্য সেন বলেন, বঙ্গবন্ধু মানে বাংলার বন্ধু। কিন্তু শেখ মুজিব ছিলেন তার চেয়েও বড় কিছু। তিনি বাংলাদেশের মহান রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি এবং বাংলাদেশের মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলা ব্যক্তিত্ব। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে মানুষ ভালোবাসে মন থেকে।

অমর্ত্য সেন বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তার আদর্শ কেউ কেড়ে নিতে পারেনি। তিনি বলেন, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়া এখন এক আদর্শগত দ্বন্দ্বে ভুগছে। সেদিক দিয়ে উপমহাদেশের দেশগুলো বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষতার চিন্তা থেকে শিখতে পারে। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা থাকবে না, এটা বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন না। বঙ্গবন্ধু চাইতেন, ধর্মকে যেন রাজনীতির হাতিয়ার করা না হয়।

১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান গ্রহণের দিনটিতে বঙ্গবন্ধুর একটি বক্তব্য তুলে ধরেন বাঙালি অধ্যাপক অর্মত্য সেন, যেখানে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, সবাই যার যার ধর্ম পালন করবে। ধর্মকে শুধু রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। অর্মত্য সেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তা ভারতসহ অনেক দেশের জন্য জরুরি।

অমর্ত্য সেন বলেন, শেখ মুজিব ও সম্রাট আকবরের ধর্মনিরপেক্ষ তত্ত্ব সারাবিশ্বই অনুসরণ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপেও মাঝে মাঝে পরোক্ষভাবে ধর্ম ও বর্ণের মাধ্যমে বৈষম্য করা হয়। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাতেও এমন দৃশ্য দেখা যায়। অমর্ত্য সেন বলেন, ১৯৭১ সালে সেই কঠিন সময়েও বঙ্গবন্ধু সেক্যুলারিজম ও ধর্মকে সম্মান করতে ভোলেননি। সবাইকে সমান অধিকার নিশ্চিত করার কথা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

অমর্ত্য সেন বলেন, বাংলাদেশকে না জেনে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ না জেনে তাকে জানা যাবে না। বঙ্গবন্ধু ও মহাত্মা গান্ধীর আদর্শগত মিল ছিল। তাদের সেক্যুলার ধারণার বিরোধীও ছিল অনেকে। বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, আমি আমার প্রতিবেশী দেশের নেতার মহান আদর্শের প্রতি সম্মান জানাতে চাই, যেই আদর্শে বাংলা ও বিশ্ব অনুপ্রাণিত হয়েছে।

আলোচনায় দ্বিতীয় বক্তা হিসেবে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কথা বলতে গেলে শেষ হবে না। তিনি বলেন, অমর্ত্য সেন বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আদর্শ তুলে ধরেছেন। আমিও বলতে চাই, রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু ধর্ম নয়, জাতিসত্ত্বাকে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশি পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, বঙ্গবন্ধু চাইতেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রটিতে ‘ইগালেটেরিয়ান’ সমাজ প্রতিষ্ঠিত হোক। সেখানে পাকিস্তানের মতো অভিজাত শ্রেণি তৈরি না হোক, যারা সকল সুবিধা ভোগ করবে, আর সাধারণ মানুষ পিছিয়ে থাকবে। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু চাইতেন, বাংলাদেশে বঞ্চিতরা হবে রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী। উল্লেখ্য, ‘ইগালেটেরিয়ান’ চিন্তা হলো এমন একটি রাজনৈতিক দর্শন, যেখানে সব মানুষকে সমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর সবার জন্য সমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করা হয়।

রেহমান সোবহান বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন নিয়ে এখন কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু সফল ছিলেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এবং তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে শেখ হাসিনাও সঠিক পথেই রয়েছেন। শেখ হাসিনাও বিশ্বাস করেন ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।

ভার্চুয়াল এ আয়োজনে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছিলেন। তবে বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

এর আগে গত ১ ডিসেম্বর রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধু লেকচার সিরিজের উদ্বোধন করা হয়। ওইদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হয়ে লেকচার সিরিজের উদ্বোধন করেন। বঙ্গবন্ধু লেকচার সিরিজের প্রথম অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ওপর কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।

Related posts

ঢাকা সফরে আসবেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

Irani Biswash

নিউইয়র্কে ৩ নারীকে হত্যা ও যুবকের আত্মহত্যা

Irani Biswash

অক্সফোর্ডের টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিল ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

Mims tv : Powered by information

Leave a Comment

Translate »