অগাস্ট ১, ২০২১
MIMS TV
অভিমত আন্তর্জাতিক এই মাত্র পাওয়া প্রিয় লেখক ব্রেকিং নিউজ মু: মাহবুবুর রহমান

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ভবিষ্যত

মু: মাহবুবুর রহমান

 গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের নেত্রী অং সাং সুচিকে আটক করে আবারও ক্ষমতা দখল করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। ফলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। ২০২০ সালের ৮ই নভেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদের প্রথম সভা যেদিন বসার কথা ছিল সেই ১ ফেব্রুয়ারীর দিন সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

গত পাঁচ বছর সুচির ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে দেখা গেছে মিয়ানমারে বেসামরিক সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রায় সব বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও রোহিঙ্গা নীতিতে দুইপক্ষের অবস্থান ছিল এক ও অভিন্ন। তাই বিশ্লেষকদের ধারণা দেশটিতে ক্ষমতার পালাবদল হলেও রোহিঙ্গা নীতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসবে না।

শঙ্কিত বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও অভিযানের মুখে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। মিয়ামারে সামরিক অভ্যুত্থানকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে অবস্থান নেয়া এসব রোহিঙ্গাদের মাঝে। বিশেষ করে সেনা অভ্যুত্থানের কারণে মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার বিষয়ে আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা।

কক্সবাজারে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা যুব সংগঠনের প্রধান খিন মং বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, “সেনাবাহিনী আমাদের হত্যা করেছিল, মা-বোন ধর্ষণ করেছিল।” সেই সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নিরাপদে থাকা আদৌ কী সম্ভব বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সামরিক অভ্যুত্থানের বিষয়ে নিন্দা প্রকাশ করে খিন মং বলেন, “এ ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনেক বেশি দীর্ঘমেয়াদী হবে। আমরা গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ভালবাসি। মিয়ানমারের অংশ হিসেবে এ পরিস্থিতিতে দেশটির একজন সাধারণ নাগরিকের মত অনুভূতি কাজ করছে আমাদের।”

রোহিঙ্গাদের ওপর আবারো নির্যাতন ও রোহিঙ্গা স্রোতের শঙ্কা 

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে দেশটিতে থাকা ৬ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানের দুর্দশা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছেন, যাদের মধ্যে মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা সেখানকার বন্দিশিবিরে বসবাস করছেন। এসব রোহিঙ্গারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেন না এবং মৌলিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবা থেকেও তারা বঞ্চিত। আমাদের ভয় হচ্ছে, মিয়ানমারের ঘটনা (অভ্যুত্থান) তাদের (রোহিঙ্গাদের) পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দিতে পারে।’

বন্দিশিবির কিংবা আইডিপি ক্যাম্পের বাইরে এখনো যেসব রোহিঙ্গা রাখাইনে বসবাস করছেন সেনা অভ্যুত্থানের পর তাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে নানা ধরণের শঙ্কা। রাখাইনে আবারো রোহিঙ্গা নির্যাতন ও সীমান্ত দিয়ে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শংকাও রয়েছে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মাঝে। রাখাইনে থাকা রোহিঙ্গাদের অনেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার জন্য কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা তাদের স্বজনদের কাছে নিয়মিত যোগাযোগ করে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ-খবরও নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

রাখাইনে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মতে, এখন যারা ক্ষমতা নিয়েছে এই সেনাবাহিনীই রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের পুরোটা অংশ জুড়ে নেতৃত্ব দিয়েছিল। তারা এখন রাখাইনে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক হবে, সেরকম আশা রোহিঙ্গারা করতে পারছেন না।

এদিকে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পরে নতুন করে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এছাড়া মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের জলসীমায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাখাইনের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ‘যোগাযোগ’

ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমারের সামরিক প্রশাসন রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ‘যোগাযোগ’ করেছে বলে জানা গেছে। বিষয়টিকে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের মাঝে আস্থা তৈরি করতে রাখাইন রাজ্যে সামরিক জান্তার ‘ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরানোর আকাঙ্ক্ষা’ হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।

সামরিক প্রশাসনের ক্ষমতা গ্রহণ করার পর রোহিঙ্গাদের প্রতি তাদের প্রথম ভালো আচরণের খবর বৃহস্পতিবার (৪ ঠা ফেব্রুয়ারি) রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তেয়েতে (Sittwe) পাওয়া যায়। মিয়ানমারের এক সূত্র সংবাদ সংস্থা ইউএনবিকে জানায়, রাখাইন রাজ্য বিষয়ক আঞ্চলিক সামরিক অধিনায়ক সিত্তেয়ের অং মিংগ্লার কোয়ার্টারে যান এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের কয়েকজন নেতার সাথে সাক্ষাৎ ও প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে কথা বলেন। অং মিংগ্লার এলাকায় একটি আইডিপি ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মুরব্বিদের কাছে সেনা অভ্যুত্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আঞ্চলিক সামরিক অধিনায়ক।

আঞ্চলিক সামরিক অধিনায়ক রাখাইন রাজ্যের ঐ মহল্লায় থাকা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় রোহিঙ্গা মুরব্বিরা তাদের প্রধান সমস্যা হিসেবে ‘চলাচলে থাকা কঠোর বিধিনিষেধের’ কথা তুলে ধরেন। সামরিক অধিনায়ক রোহিঙ্গাদের ওপর থাকা বিদ্যমান চলাচলের বিধিনিষেধ সহজ করার আশ্বাস দেন। সেই সাথে তিনি রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে জানান যে সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে সব সমস্যার সমাধান করবে। পরে আঞ্চলিক সামরিক অধিনায়ক অং মিংগ্লার কোয়ার্টারের মসজিদের জন্য পাঁচ লাখ এমএমকে (৩৫০ মার্কিন ডলার) এবং কিছু খাদ্য সহায়তা দেন। তিনি ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনার জন্য এনএলডি এবং অং সান সু চিকে দায়ী করেন।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের কাছে খবর এসেছে, রাখাইনে নতুন মিলিটারি কমান্ডাররা রাখাইনে যেসব রোহিঙ্গা আছে, তাদের ক্যাম্পে গিয়েছিলেন এবং ওদের মুরুব্বিদের সাথে আলাপ করেছেন।” এগুলো শুনে কক্সবাজারে ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা খুব খুশি জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এইজন্য যে, আর্মি তাদের অভয় দিয়েছে। এগুলো ভালো সংবাদ। নতুন শুরু।” তবে রাখাইনের ক্যাম্পে সেনাবাহিনী যাওয়ার খবর এখনও সরকারিভাবে আসেনি বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিভিন্ন সূত্রের খবরে এটুকু বোঝা যায় যে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী হয়তো রাখাইনে তাদের হারানো ভাবমূর্তির অংশবিশেষ উদ্ধার করতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ ধরনের আচরণ রোহিঙ্গাদের প্রতি তাদের সম্ভাব্য ‘নরম’ হওয়া ইঙ্গিত বহন করে কি না তা নিয়ে মন্তব্য করার সময় এখনই আসেনি বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।

তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী যদি রাখাইনের পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেটি কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের মাঝে ইতিবাচক সংকেত দেবে, এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। কারণ স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য সম্ভাব্য আগ্রহী রোহিঙ্গাদের মাঝে মিয়ানমারে ফিরে যাবার আস্থা তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টির আহবান নিরাপত্তা পরিষদের

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংকটের মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা, টেকসই এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (৪ ঠা ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, ‘নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উত্তরণে অব্যাহত সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।’ ‘তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখতে, সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে এবং মানবাধিকার, মৌলিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন,’ বলা হয় বিবৃতিতে।

এছাড়া গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জারি করা জরুরি অবস্থা এবং স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি, রাষ্ট্রপতি ইউ উইন মিন্তসহ অন্য নেতাদের নির্বিচারে আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় এবং বাংলাদেশে এখন প্রায় প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য বাংলাদেশ একাধিক উপায়ে- দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয়, ত্রিপক্ষীয় এবং বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ সম্পর্কিত একটি চুক্তিতেও স্বাক্ষর করে ঢাকা-নেপিদো, যা রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থার অভাবের কারণে ২০১৮ সালের নভেম্বরে এবং ২০১৯ সালের আগস্টে দুবার প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এরপর মিয়ানমারের নির্বাচন ও কোভিড -১৯ পরিস্থিতির কারণে ২০২০ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কোনো অগ্রগতিই হয়নি। এ বছর চীনের মধ্যস্ততায় মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের কিছুদিন আগে গত ১৯শে জানুয়ারী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশ এবং চীনের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এক বছরের বেশি সময় পর এই বৈঠকে আবার আলোচনার দিন ঠিক করা হয়েছিল ৪ঠা ফেব্রুয়ারি। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নির্ধারিত ৪ঠা ফেব্রুয়ারির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।

যদিও এখনো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের ওপর আস্থা রাখতে চায় বাংলাদেশ।  ৩ ফেব্রুয়ারি  নিজ দফতরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চীনকে এখনও আস্থায় রেখেছি। সব দেশ আমাদের বন্ধু দেশ। চীন এ বিষয়ে কিছু অগ্রসর হয়ে এসেছে। জাপান কিছুটা অগ্রসর হয়েছিল। কিন্তু সেটি এখনও বেশিদূর এগোয়নি। চীন কিছুটা অগ্রগতি লাভ করেছে। আমরা তাদের আস্থার মধ্যে রেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের চুক্তি হয়েছে। সুতরাং প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকা উচিত। আমাদের ইতিহাস আছে, আগে যখন মিয়ানমারে সামরিক সরকার ছিল, ১৯৭৮ বা ১৯৯২ সাল, ওই সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হয়েছে। তাহলে এখন কেন হবে না?’

তবে এ বিষয়ে একমত প্রকাশ করতে পারছেন না আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর সময় সুচি ক্ষমতায় থাকলেও মূলত সেনাবাহিনীই এ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। ফলে ক্ষমতার এ পরিবর্তনে বাংলাদেশকে মিয়ানমারের বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন থাকতে হবে বলে মনে করছেন তারা।

রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে অং সান সু চি’র সরকারের সাথে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের অবস্থানের কোন পার্থক্য হবে না বলে মনে করেন মিয়ানমারের মানবাধিকার কর্মী উয়ে লোয়। তিনি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে গঠিত কফি আনান কমিশনে একজন উপদেষ্টা ছিলেন।

উয়ে লোয় বিবিসি বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মিয়ানমারের পরারাষ্ট্রনীতি একই থাকতে পারে। তবে তিনি বলেন, “মিয়ানমারের উচিত হবে বাংলাদেশ সরকারের সাথে মিয়ানমার যে চুক্তিতে পৌছেছে এবং বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং জাতিসংঘের সংস্থার সাথে যে চুক্তি হয়েছে – তা সম্মান করা।”

সবারই প্রত্যাশা মিয়ানমার যেন বাংলাদেশের সঙ্গে করা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তিকে সম্মান করে এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুটি যেন কোনোভাবে চাপা পড়ে না যায়। প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে তা অব্যাহত থাকুক এবং রোহিঙ্গারা ফিরে যাক তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে।

মু: মাহবুবুর রহমান, নিউজিল্যান্ডের মেসি ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক

Related posts

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে করোনার ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইন্সটিটিউটে

Mims tv : Powered by information

বাংলাদেশ এখন ঋণ দেওয়ারও ক্ষমতা রাখে: ড. হাছান মাহমুদ

Irani Biswash

কৌশলে উইঘুর সম্প্রদায় বিলুপ্তির পথে ধাবিত করছে চীন

Mims tv : Powered by information

Leave a Comment

Translate »