অগাস্ট ৪, ২০২১
MIMS TV
এই মাত্র পাওয়া বিনোদন ব্রেকিং নিউজ স্বাস্থ্য

সঠিক চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু হয়েছে মান্নার : শেলী

প্রয়াত জনপ্রিয় নায়ক মান্নার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এফডিসিতে গণমাধ্যমকে মান্নাপত্নী শেলী মান্না বলেন, ‘মান্নাকে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। দিলে মান্না হয়তো আমাদের মাঝে বেঁচে থাকতেন। হাসপাতাল দুই ঘণ্টা ৪০ মিনিটের হিসাব কিন্তু দিতে পারেনি। আমি ডাক্তারদের খাটো করে কিছু বলছি না। বলতে গেলে আমাদের দেশের সিস্টেম, প্রক্রিয়ার কথা বলতে হয়।

২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান মান্না।  তার এ মৃত্যুুকে স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলে দাবি তার পরিবারের। নায়ক মান্নার মৃত্যু এখন পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি তার কোটি কোটি ভক্ত। নিতে পারেনি তার পরিবারও।

শেলী মান্না স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘মান্না মাঝরাতে যখন বাসায় ফিরেছে তখন বুকে হালকা ব্যথা করছিল। রাতে খাওয়াদাওয়া করেছে, কিন্তু ব্যথা যায়নি। সে নিজরে সাস্থ্য নিয়ে অতি সতর্ক ছিলেন।  আমরা হলে হয়তো এতটা হতাম না। একটা অ্যালার্জি হলেও ডাক্তারের কাছে যায়। ওর অসুখবিসুখ বলতে কিছু ছিল না, শুধু এসিডিটি ছিল। যেহেতু ব্যথা কমছে না, মান্না ভাবল ইউনাইটেড হাসপাতালে যাই। কেন ইউনাইটেডে যাবে, কারণ ‘পিতা-মাতার আমানত’ ছবির শুটিং ইউনাইটেড হাসপাতালে করা হয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল, ইউনাইটেড হাসপাতালটা ভালো। সব কিছুই প্রপার।

শেলী মান্না বরেন, মান্না কিন্তু নিজে গাড়ি চালিয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে গেছে। ডাক্তারের ভাষায় অ্যাকুইট হার্ট অ্যাটাক, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় তার। যদি কারো কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় সে কোনোভাবেই গাড়ি চালিয়ে যেতে পারবে না। একটা স্টেপও নিতে পারবে না। ইউনাইটেড হাসপাতাল আমাদেরকে যেসব ফুটেজ দিয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে মান্না হেঁটে গিয়েছে। তার বিভিন্ন টেস্ট করিয়েছে। তারপর ভর্তি হয়েছে। তাকে কিন্তু কেউ ধরেও নেয়নি। সে একজন স্বাভাবিক মানুষ গিয়েছে। গ্যাসের পেইন, হার্টের পেইন সেইম। ডাক্তাররাও একইভাবে ট্রিটমেন্ট করেন। কোনো প্রস্তুতি না রেখেই মান্নাকে হার্টের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, যেটা উন্নত বিশ্বের চিকিৎসাশাস্ত্রে ঘটে না। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এ বছরই মান্নার শুনানি হবে, মানুষ জানবে মান্নার মৃত্যু কিভাবে হয়েছে সেটা সবার কাছে ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

কান্নাজড়িত কন্ঠে শেলী মান্না বলেন, আমি একজন ডাক্তারের মেয়ে। আমার বাবাও একজন ডাক্তার। বাংলাদেশে এমবিবিএস তখনো চালু হয়নি। আমার বাবা কলকাতা থেকে পাস করেছেন। সেই আমলের ডাক্তার। আমার বাবা যেহেতু ডাক্তার, সেহেতু আমি ডাক্তারদের খাটো করে কিছু বলছি না। বলতে গেলে আমাদের দেশের সিস্টেম, প্রক্রিয়ার কথা বলতে হয়। আমার বাবা ডাক্তার, সেহেতু আমি কিছুটা জানি। আমি যেখানে চাকরি করি, সেখানে সব ব্যাপারে প্রশিক্ষণ নেই। উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে  হয়।

মান্না যখন হাসপাতালে ভর্তি হলো তখন ভোর পৌনে পাঁচটা। আমি যদি বাংলাদেশে থাকতাম তাহলে কী করতাম? যে হার্টের স্পেশালিস্ট তাকে দেখাতাম।  আমার যখন হাত ভেঙে গিয়েছিল তখন আমি অর্থোপেডিকস ডাক্তারের কাছেই গিয়েছিলাম। সাধারণ ডাক্তাররা কিন্তু আমার হাত জোড়া লাগাতে পারবে না। মান্নার চিকিৎসা কিন্তু সাধারণ ডাক্তাররা করেছে। ট্রিটমেন্ট করে যখন কন্ট্রোলের বাইরে চলে গেছে। ৭টা ৪০-এর দিকে তারা হার্টের একটা ইনজেকশন দেয়। ইনজেকশনের নাম এসকে। অভিজ্ঞ ডাক্তার ছাড়াই এসব করা হয়েছে। আমরা কেস করেছি, এগুলো পয়েন্ট আছে।

শেলী বলেন, উন্নত দেশে অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত রেখে, কার্ডিওলজিস্ট সঙ্গে রেখে তারপর ওই এসকে ইনজেকশন দেওয়া হয়। মান্নার বেলায় এসব করা হয়নি। ওই ইনজেকশন দেওয়ার পর মান্না গোঙরাইছে। গোঙরানিতে মান্না তখন বমি করে দিয়েছে। তাদের ডাক্তার রুটিন অনুযায়ী ৯টায় এসেছে। ডাক্তার ফাতেমার আন্ডারে ট্রিটমেন্ট। ওই হাসপাতালে কি প্রোসিডিউর ছিল না বলেন? ওই সময় ইমার্জেন্সিতে নিয়ে অভিজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে রাইট টাইমে রাইট চিকিৎসাটা করত, তাহলে হয়ত মান্না বেঁচে যেত।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের কালিহাতীর সন্তান এস এম আসলাম তালুকদার প্রকাশ মান্নার ছোটবেলা থেকেই সিনেমার প্রতি ছিল প্রচণ্ড ঝোঁক। কলেজে পড়ার সময় প্রচুর সিনেমা দেখতেন। নায়ক রাজ্জাকের সিনেমা হলে তো কথাই নেই। স্বপ্ন দেখতেন তিনিও একদিন অভিনয় করবেন। অনেকের ইচ্ছে থাকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার; কিন্তু তার ইচ্ছে ছিল নায়ক হওয়ার। হলেনও। কিন্তু বেশিদিন রইলেন না। তুমুল জনপ্রিয়তা নিয়ে চির বিদায় নিলেন।

Related posts

কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

Mims tv : Powered by information

কানাডায় পাহাড় কিনলেন বলিউডের শীর্ষ তারকা অক্ষয় কুমার

শাহাদাৎ আশরাফ

১৬টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি

Irani Biswash

Leave a Comment

Translate »