অগাস্ট ১, ২০২১
MIMS TV
আন্তর্জাতিক এই মাত্র পাওয়া প্রিয় লেখক ব্রেকিং নিউজ মু: মাহবুবুর রহমান

আন্দামান সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গাদের উদ্ধারের আহবান জাতিসংঘের

মু: মাহবুবুর রহমান

আন্দামান সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে উদ্ধারের আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। আন্দামান সাগরের ঐ এলাকায় পরিচালিত সকল নৌ কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়টি ইউএনএইচসিআরের পক্ষ থেকে জানিয়ে রোহিঙ্গাদের জরুরী ভিত্তিতে উদ্ধারের আহবান জানানো হয়েছে।

ইউএনএইচসিআরকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ভাসমান ওই রোহিঙ্গারা একটি নৌযানে করে আন্দামান সাগরে পৌঁছায়। নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে তারা সাগরে আটকে পড়ে যায়। নৌযানটিতে আটকেপড়া রোহিঙ্গাদের শারীরিক অবস্থা খুবই শোচনীয় এবং তারা মারাত্মক পানিশূন্যতায় ভুগছে। এরইমধ্যে কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছে বলেও জানায় জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা।

অবিলম্বে সাগরে আটকেপড়া রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করা না হলে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা করছে জাতিসংঘের সংস্থাটি। বিষয়টি নিয়ে ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তা ক্যাথরিন স্টাবারফিল্ড বিবিসিকে জানান, সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরের দিকে সর্বশেষ ওই নৌযানটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, নৌযানে থাকা রোহিঙ্গাদের জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা প্রয়োজন।

ইউএনএইচসিআরকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানায়, রোহিঙ্গাদের এ দলটি বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকা থেকে ১০ দিন আগে সাগরপথে যাত্রা করে। কিন্তু কক্সবাজারে নিয়োজিত বিজিবি, কোস্টগার্ড এবং পুলিশের কোন সূত্র ইউএনএইচসিআরের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়নি। আবার ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গাদের টেকনাফ থেকে যাত্রার যে তথ্য দিচ্ছে তার সপক্ষে কোন প্রমাণও উপস্থাপন করতে পারেনি। বর্তমানে যেসব রোহিঙ্গারা আন্দামান সাগরে ভাসছে এরা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সাগরপথে যাত্রা করেছে – এমন তথ্যও দিচ্ছে বিভিন্ন সূত্র।

বাংলাদেশ কিংবা মিয়ানমার যেখান থেকেই যাত্রা করুক আন্দামান সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গাদের অবস্থা শোচনীয়। আরাকান প্রজেক্ট নামের একটি মানবাধিকার গ্রুপ বলছে, নৌযানের আরোহীদের মধ্যে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে মূলত: পানিশূন্যতার কারণে। আরাকান প্রজেক্টের পরিচালক ক্রিস লেওয়া নিউজ মিনিট ওয়েবসাইটকে বলেন, “তাদের আর কোনো পানীয় জল ও খাবার অবশিষ্ট নেই। উপায় না পেয়ে তারা সাগরের পানি পান করছেন।”

আর তাই বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) বলেছে, “জীবন বাঁচাতে এবং আরও বিয়োগান্তক ঘটনা ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ দরকার। আমরা সরকারগুলোর প্রতি আহবান জানাচ্ছি, তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতার সক্ষমতা কাজে লাগানো হোক এবং এই দুর্গতদের দ্রুত তীরে আনা হোক।”

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমনাভিযানের মুখে সাত লাখ ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়। এছাড়া আগে থেকেই বাংলাদেশে অবস্থান করে আছে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা। সম্প্রতি কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গারা দেশটির সরকার ও বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠদের নিপীড়নের মুখে ২০০৭ সাল থেকেই মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার আশায় সরু নৌকায় করে বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দেয়। জাতিসংঘের তথ্য মতে, বিপজ্জনক এই যাত্রায় গত বছর (২০২০ সালে) দুইশ’র বেশি রোহিঙ্গা সাগরে ডুবে মারা গেছে বা হারিয়ে গেছে।

Related posts

সাইপ্রাসের দাবানল নিয়ন্ত্রনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান

Irani Biswash

৬০ শতাংশ এর বেশি ইহুদি ট্রাম্পের পক্ষে

শাহাদাৎ আশরাফ

থ্রিলার ছবিতে বাঁধনের রহস্যময় চরিত্র

Irani Biswash

Leave a Comment

Translate »