জুলাই ৩১, ২০২১
MIMS TV
এই মাত্র পাওয়া জীবনধারা নারী বাংলাদেশ ব্রেকিং নিউজ সাহিত্য

মেঠো পথে স্বাধীনতার ছোঁয়া

ইরানী বিশ্বাস
বছরের ৫ মাস পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে পারাটা ছিল গর্বের। বাকী ৭ মাস পানি আর কাঁদার সাথে সম্পর্ক। বলছিলাম আমার জন্মস্থান গোপালগঞ্জের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের কথা।
শুধু আমার জন্মস্থানই নয়, এই জেলার অধিকাংশ গ্রাম নিন্মজলাভুমি। আমার ছোটবেলায় দেখেছি এই এলাকায় ভুমিহীন মানুষের সংখ্যা অধিক ছিল। তাদের নিত্য জীবনযাত্রায় ছিল নাজৌলুস। সারাবছর অধিক পরিশ্রম করেও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে ব্যার্থ হতো। এর কারণ ছিল, এই জেলায় রাস্তাঘাট, এবং বিদ্যুত ছিল না। ফলে ছিল না কল-কারখানা।
মানুষ তখন জমির উপর ভরসা করে বেঁচে থাকতো। বছরে তিনবার ধান হতো। বোরো, আউশ, আমন। বোরো ধান কৃষানীরা গোলাভরে রাখলেও আউশ এবং আমন ছিল ভাগ্যের উপর। যে বছর বন্যাপ্লাবিত হতো, সে বছর ডুবে যেত আউশ-আমন। ফলে অভাব ছিল নিত্য সাথী। তবে পাট চাষে ছিল ব্যাপকতা। এছাড়া তামাক, খেসাড়ি, মুশুুড়, কালাই, সরিষা চাষ হতো। রবি শস্য ঘরে তুলতে না তুলতেই বর্ষার আনাগোনা শুরু হয়ে যেত। মানুষ আতঙ্কে থাকতো, এই বুঝি রাতের আঁধারে মাঠ- ঘাট জলে প্লাবিত হয়ে যায়। তাই বর্ষা আসার আগেই প্রত্যেক পরিবারে একটি করে আলগা মাটির চুলা তৈরি করে রাখতো।
জ্বালানী এবং শুকনা খাবার যেমন মুড়ি-চিড়া আলাদা করে রেখে দিতো। যাতে বন্যা হলে অন্তত ২-৩ দিন খেয়ে বাঁচতে পারে। তার কারণ রাতের অন্ধকারে বন্যার জল হু হু করে বেড়ে যেত। মানুষ তার প্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে নিতে নিতে জলে তলিয়েযেত। ’৮৮ এবং ’৯৮ বন্যায় আমি আমাদের ঘরের নীচতলা ডুবে যেতে দেখেছি। একমাত্র ভরসা এবং এ অঞ্চলের প্রধান যানবাহন ছিল নৌকা। সে বছরগুলিতে নাকি ২২ হাত জল হয়েছিল।
নিন্মজলাভুমির কারনে আমাদের এলাকার বাড়িগুলি উঁচু টিলা আকারে তৈরি হতো। সমতল ভূমি থেকে বাড়িতে উঠতে অন্তত ৭-৮ হাত উপরে উঠতে হতো। তার পর ঘরের বাস্তু তৈরি হতো।
আমরা কখনো রাস্তা দিয়ে হাঁটার সুযোগ পাইনি। শীত আসতে আসতেই জমি শুকিয়ে যেত। আমাদের হাঁটার রাস্তা ছিল জমির আইল। গ্রামের মেঠো পথ ধরে দল বেঁধে আমরা স্কুলে যেতাম। সকালের শিশির ভেজা মেঠো পথের কাঁদা সকলের পায়ে পায়ে বাড়ি ফিরে আসতো। এ ছিল এক চরম ভোগান্তি।
বছরের ৭ মাস জলের সঙ্গে বসবাস করা এসব মানুষের বর্ষার জীবিকা ছিল মাছ ধরা। বন্যায় নদী-নালা ভরাট হলে মাছ নদী ছেড়ে জমিতে আসতে শুরু করে। তখন মানুষ সেগুলি ধরে বিক্রি করতো। শুধুমাত্র বোর ধানে বছরের ৩-৪ মাস খাবার হতো। যাদের অনেক জমি ছিল তারা হয়তো সারা বছরের খাবার গোলায় তুলতে পারতো। অধিকাংশ পরিবার অভাবে-অনাহারে দিন কাটাতো।
আমাদের যৌথ পরিবারে ২৫ জন সদস্য ছিল। তারপর কাজের মানষ ছিল অনেক। এদের কেউ কেউ সারা বছর বাঁধা কাজে থাকতো। গরু দেখাশোনা থেকে শুরু করে হাল চাষ করতো। আর মহিলারা ঘরের কাজ করতো। কেউ ধান ভানতো সারা বছর। খুব ভোরে ঢেঁকির শব্দে ঘুম ভাঙতো।
বুঝতাম ঢেঁকি ঘরে চাল তৈরি হচ্ছে। বাসন মাজা থেকে শুরু করে রান্নাবান্না করার মানুষ ছিল অনেক। আমাদের ২৫ জনের সঙ্গে হয়তো আরো ১২ জন মানুষ যোগ হতো। অনেকেই আবার থালা বাটি নিয়ে আসতো খাবার নেওয়ার জন্য। তখন কাজের মানুষের খোঁজ করতে হতো না।
বর্ষা মৌসুমে বাড়িতে মহিলা-পুরুষরা আসতো, কাজের খোজে। তারা পেটে-ভাতে আমাদের বাড়িতে থাকতে চাইতো। কেউ কেউ সারা বছর থেকে যেত। আবার অনেকেই প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে চলে যেত। এসব নতুন সদস্যদের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হতো হর-হামেশায়।
 
’৯৩ সালে আমি কোলকাতা চলে যাই। সেখানে থাকতেই জানতে পারলাম ’৯৬ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছে। আমি এ বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আসি। এসে দেখি সকলের মনে খুশি। এবার হয়তো দেশের উন্নয়ন হবে। কারণ ’৭৫ পরবর্তীতে বাংলাদশের সবচেয়ে অবহেলিত জেলার নাম গোপালগঞ্জ। যাহোক, সব অবহেলা পেছনে ফেলে জেলার উন্নয়ন হচেছ দেখে সকলে খুশি। গ্রামে খাল কাটা প্রকল্প চালু হয়েছে। হত দরিদ্র মানুষের কাজের একটা গতি হয়েছে। খাল কেটে মাটি ফেলে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। ধানের জমিতে একবারেই বড় রাস্তা তৈরি সম্ভব নয়।
তাছাড়া প্রত্যেক বছর বর্ষায় ডুবে গিয়ে মাটি ধুয়ে যাবে। কিছু লোহার পুল তৈরি হয়েছিল। মাঝারি রাস্তা করে প্রাথমিক কিছু ইট বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে রাস্তার মাটি পাকা রাস্তা তৈরির উপযুক্ত হয়। বিদ্যুৎ লাইন দেওয়ার জন্য খুটি স্থাপন করা হয়েছে। ধারনা ছিল আগামী শুকনা মৌসুমে আবার মাটি কেটে রাস্তা মজবুত করে পাঁকা করা হবে। তারপর বিদ্যুত আনা হবে।
২০০১ সালে ক্ষমতায় দলবদল হলো। এই অবহেলিত জেলা আবার পেছনে হাঁটতে শুরু করল। কে বা কারা রাতের আঁধারে বিদ্যুতের খুঁটি তুলে নিয়ে গেল। রাস্তার মাটি থেকে ইট তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। গ্রাম আবার আগের মতো হয়ে গেল। কারণ বিগত বছর গুলির মতো এ অঞ্চলে কোন ত্রান আসে না। বা উন্নয়ন প্রকল্পর পাশ হয় না। ’৭৫ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর সাথে এ অঞ্চলের ভাগ্যের সুর্য অস্তমিত হয়েছিল। তারপর ’৯৬-২০০০ পর্যন্ত সে সুর্য উদিত হতে না হতেই আবার অস্তমিত হয়ে গেল।
২০০৮ সালে আবার ক্ষমতায় আসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল।
গ্রামের মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে। শুরু হয় অবহেলিত সেই জেলার উন্নয়ন প্রকল্প। যার ধারাবাহিকতা আজও অব্যাহত আছে।
আমার মেয়ের কাছে প্রায়ই আমার ছোটবেলার সেই গ্রামের গল্প করি। সে মনে মনে ছবি আঁকে গ্রামের মেঠো পথ, নৌকায় করে বিলের মধ্যে দিয়ে যাওয়া। যেতে যেতে দুপাশে লাল-সাদা শাপলা আর কচুরি ফুলের সমারোহ। হয়তো এসব দৃশ্য ওকে খুব টানে।
ব্যক্তিগত কারণবসত আমার গ্রামে যাওয়া হয়নি অনেক বছর। ’১৫ সালে আমার মেয়ে গ্রামে যাবে। তার বায়না সে বাস থেকে নেমে নৌকায় করে আমাদের বাড়িতে যাবে। কারণ আমার ছোটবেলা বর্ষায় এটাই ছিল একমাত্র পথ। আর শুকনা মৌসুমে পায়ে হেঁটে অথবা নৌকায় করে যেতে হতো ৩ ঘন্টা সময় নিয়ে। যে রাস্তা এখন ১০ মিনিটে যাওয়া যায়। যাই হোক, মা’কে জানানো হলো তাঁর নাতনীর ইচ্ছার কথা।
তিনি জানালেন এখন তো বাড়ি পর্যন্ত টেম্পু অথবা অটোতে আসা যায়। তারপরও নাতনীর ইচ্ছার কাছে হার মানলেন আমার মা। কোন মতে একটা নৌকার ব্যবস্থা করা হলো, তবে সেই ছইওয়ালা নৌকা না পাওয়া গেলেও খোলা নৌকার ব্যবস্থা করা হলো। সেই বারে গিয়ে অনেক পরিবর্তন চোখে পড়লো। মধুমতি নদীর শাখা নদী যেটা পদ্মার সাথে মিশে গেছে তার নাম কুমার নদী। এই ছোট শাখা নদীতে খেয়া নৌকা পাড়ি দিয়ে যেতে হতো আমাদের বাড়িতে।
এবারে দেখলাম এই নদীর উপর বিশাল এক দৈত্যের মতো ব্রিজ হয়েছে। যার উপর দিয়ে প্রাইভেট কার থেকে শুরু করে বড় বড় ট্রাক চলে যাচ্ছে। গ্রামের অধিকাংশ ঘর সিমেন্টে বাঁধানো। তবে তখনো ইলেক্ট্রিসিটি আসে নাই। প্রসেসিং চলছে। গ্রাম আর সেই আগের মতো নেই। খড়-বাঁশের ঘর নেই বললেই চলে।
২০১৮ সালের মাঝামাঝিতে আরো একবার গ্রামে যাবার কথা বলতেই আমার মেয়ের আবার সেই বায়না, নৌকায় বাড়ি যাবে। মাকে জানানো হলো। অনেক চেষ্টা করেও কিছুতেই নৌকার ব্যবস্থা করা গেল না। তাছাড়া এখন তো আগের মতো বর্ষা হয় না। তাই বিলে জল নেই। নেই শাপলা বা কচুরিপানার ফুল। অগত্যা আমাদের অটো ভাড়া করে বাড়িতে যেতে হলো। যেতে যেতে মনে হলো, আমার দেখা সেই দৈন্য গ্রাম এখন কতো সমৃদ্ধশালী। মানুষের স্বাস্থ্য দেখলে বোঝা যায়
তাদের এখন আর খাবারের কষ্ট নেই। গোলাভরা ধান, প্রত্যেকের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। টিভি- ফ্রিজ-মোবাইল ইলেক্ট্রিক শ্যালো মেশিন কি নেই এদের হাতের নাগালে।
আমাদের বাড়িতে শহুরে সকল আয়োজন আছে। শুধু ব্যতিক্রম আমাদের বাগান আর মাটির উঠোন। এলপি গ্যাসে রান্না, মটরে জল তুলে বাথরুমে স্নান করা। এখন আর কেউ পুকুর বা খালে স্নানের জন্য যায় না। আগে দল বেঁধে নদীতে স্নান করার দৃশ্য ছিল অপূর্ব। যে মানুষটাকে দেখেছি আমাদের বাড়িতে বছরের বহতা কাজ করতে। তার সিমেন্টের ওয়াল বাঁধানো ঘরে টিভি চলছে। আমাকে দেখেই জিজ্ঞেস করলো, বাংলাদেশর নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প কি ভাবছে? আমি তাকিয়ে আছি তাঁর মুখের দিকে। এসব মানুষ ট্রাম্পের খবর রাখে? আমার অবস্থা বুঝতেই তিনি বললেন, এখন তো নিয়মিত টিভি দেখি। রাতে মোবাইলের ইন্টারনেটে বিবিসি সংবাদ শুনি। দেশ-বিদেশের সব সংবাদ জানতে পারি। আমি মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত শুনে অনেকেই
আমাকে বিশ্ব মিডিয়ার সংবাদ জিজ্ঞেস করে। বলিউডে নতুন কোন মুভি রিলিজ পেল। কোন গান সবচেয়ে হিট হলো। হলিউডে কোন তারকা কতো টাকা আয় করে এসব তথ্য শুনে আমি রীতিমতো হতবাক বনে যাই। এই কি আমার সেই গ্রাম? যেখানে ঘরের মধ্যে এক গলা জলে দাঁড়িয়ে আমি সাঁতার কাঁটতে শিখেছি! যে গ্রামের মানুষ রিলিফের অভাবে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটিয়েছে।
শুধুমাত্র গোপালগঞ্জের নাম শুনলে প্রজেক্ট বাতিল হয়ে যেত। বছরের পর বছর খাল খনন না হওয়ার কারণে বন্যা হতো। বিদ্যুত না থাকার কারণে কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়ন বা কলকারখানার সৃষ্টি হয়নি। মিঠা জলের মাছের জন্য প্রসিদ্ধ হিসাবে বিখ্যাত এই অঞ্চলের মাছ আগে দ্রুত বিক্রি বা সংরক্ষনের ব্যাবস্থা ছিল না।
বর্তমানে এ অঞ্চলে ইরি চাষ হচ্ছে। উচ্চফলনশীল ইরি ধানে যেন জমি থৈ থৈ করে। বাড়িতে বাড়িতে ধানের ছড়াছড়ি। বড় রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাজার বসেছে। সেখানে নিত্য বাজার বসে।
মানুষ এখন আর সাপ্তাহিক হাটের জন্য অপেক্ষা করে না। নিন্ম বিত্তমানুষগুলি ঘরের চালে বেয়ে ওঠা লাউ, কুমড়া নিয়ে চলে যায় বিক্রি করতে। কেউ বসে খায় না। এসব বাজারে বরফ কল স্থাপন হয়েছে, ফলে কারখানায় কাজের ব্যবস্থার পাশাপাশি দুর্বল বা মরা মাছ সহজে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া বিলের যে কোন জায়গা থেকে মাছ ধরার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ট্রাক বা যানবাহনে করে ঢাকা বা নির্ধারিত স্থানে পৌছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছে এলাকার মানুষ।
কৃষি উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন চোখে পড়ে। এ এলাকার কৃষক সুদ মুক্ত ঋণ গ্রহণ করে কৃষি সরঞ্জাম কিনতে পারছে যেমন ট্রাকটর, ধান কাটা মেশিন, ধান মাড়াই মেশিন এমনকি অটো রাইস মিল সহজে করতে পারছে। ঘরে বসে কৃষক বা গৃহিনী ভিডিও কলের মাধ্যমে থানা কৃষি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনেক গুরুত্বপূর্ন তথ্য জানতে পারছে। এর মধ্যে রয়েছে সবজি চাষের প্রনালী, মাছ চাষের প্রনালী, ফল বা ঔষধী গাছ রোপনের প্রকৃত সময় বা রক্ষনাবেক্ষন তথ্য।
এই এলাকার চেহারা পরিবর্তন হয়েছে গত ৫ বছরে। এরই মধ্যে দেশের দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের সবচেয়ে বড় আশির্বাদ পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে এ এলাকার মানুষ ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরবে মাত্র ৩ ঘন্টায়। এতে মানুষের রাজধানীমুখি থেকে বিরত করবে বরং ঢাকায় বসবাসরত অনেক পরিবারই নিজ নিজ বাড়িতে ফেরত আসবে। তারা অনায়াসে বাড়ি থেকে ঢাকা অফিস করতে পারবে। এটা শুধু আমার জেলার উন্নয়নের জোয়ার নয়। এটা সমগ্র বাংলাদেশের উন্নয়নের জোয়ার। স্বাধানীতার ৪৭ বছর পর এ দেশ পেয়েছে প্রকৃত কান্ডারী।
যার হাত ধরে বাংলাদেশ এরই মধ্যে বিশ্বদরবারে দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়েছে। মধ্যম আয়ের দেশের নামে তালিকাভুক্ত হয়েছে। দেশের কোথাও না খেয়ে মানুষ মারা যাবার সংবাদ পাওয়া যায় না। সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানোন্নয়ন হয়েছে। প্রশাসন হয়েছে স্বয়ং সম্পূর্ন।
সারা দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখে, একদিন শীর্ষ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান পাবে আমাদের সোনার বাংলা। প্রত্যন্ত অনঞ্চলের সেই মেঠো পথে যখন একটি মেয়ে মটর বাইক চালিয়ে স্কুল-কলেজে বা চাকরি করতে যায় তখন আমার গর্বে মন ভরে যায়। আজ দেশ সত্যি স্বাধীন হয়েছে। সুবর্ণজয়ন্তীর এই মহেন্দ্রক্ষণে আমি হেটে যাই আমার চেনা মেঠোপথ ধরে।
দুরে তাকিয়ে দেখি ইট তুলে নিয়ে যাওয়া রাস্তায় চলছে ইঞ্জিনচালিত যানবাহন। দিগন্তজুড়ে সবুজ ধানক্ষেতের মায়ায় যেন ডাকছে ফিরে এসো শহরছেড়ে চিরচেনা গ্রামে। মনে বলি, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর হলেও আমার সেই মেঠোপথের গ্রামে স্বাধীনতার ছোঁয়া লেগেছে।
স্বাধীনতা তুমি মিশে থাকো বাংলার অবারিত প্রান্তরজুড়ে।
# ইরানী বিশ্বাস; সাংবাদিক, সাহিত্যিক, নাট্যকার ও নাট্যপরিচালক

Related posts

ইংল্যান্ড সফরে ভারতীয় ক্রিকেট দল ২৪ দিনের কোরেন্টাইনে

Irani Biswash

করোনা আপডেট, মৃত্যু ৯৭জন

Irani Biswash

করোনা ভাইরাসের টিকা নিলেন বরিস জনসন

Mims tv : Powered by information

Leave a Comment

Translate »