অগাস্ট ১, ২০২১
MIMS TV
কোভিড ১৯

টাকা ও মোবাইলের স্ক্রিনে ২৮ দিন পর্যন্ত টিকে থাকে করোনাভাইরাস

নভেল করোনাভাইরাস একজনের মাধ্যমে অন্য আরেকজন আক্রান্ত হয়। তবে এর জীবাণু এ মানবদেহের বাইরে কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে তা নিয়ে এখনও বিজ্ঞানীদের ধারণা পরিষ্কার নয়।

কোভিড-19 এর ভাইরাসটি লেগে আছে এরকম জিনিসে শুধু স্পর্শ করলেই কেউ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয় না। বরং স্পর্শ করার পর সেই হাত দিয়ে কেউ যদি মুখ, নাক অথবা চোখ স্পর্শ করে তাহলেই ভাইরাসটি একজনের শরীরে ঢুকে পড়ে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, গবেষণায় বলছে সার্স ও মার্সের মতো করোনাভাইরাস লোহা, কাঁচ এবং প্লাস্টিকের গায়ে নয় দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। আবার কোনো কোনো ভাইরাস ঠাণ্ডা জায়গায় ২৮ দিনও বেঁচে থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথের একজন ভাইরোলজিস্ট নিলৎজে ফান ডোরমালেন তার সহকর্মীদের নিয়ে গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন, কোভ-২ বা সার্স ভাইরাস কাশি দেওয়ার পর থেকে ড্রপলেটের মধ্যে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এছাড়া ১ থেকে ৫ মাইক্রোমিটার আকারের ক্ষুদ্র ড্রপলেটে সার্স ভাইরাস কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, কোভ-২ ভাইরাস কার্ডবোর্ডের মতো শক্ত জিনিসের ওপর ২৪ ঘণ্টা আর প্লাস্টিকের জিনিসের গায়ে দুই থেকে তিন দিনও বেঁচে থাকতে পারে। যেমন- ভাইরাসটি দরজার হাতল, প্লাস্টিক, লেমিনেটেড ওয়ার্কটপ ও কঠিন বস্তুর ওপর দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। আর কপারে চার ঘণ্টা পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।

তবে অনেকদিন ধরেই এই প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে, যে জড়বস্তুর উপর আদৌ কী করোনাভাইরাস জীবিত থাকতে পারে?‌

আসলে পারে কী পারে না, সে নিয়ে অনেক গবেষণাই চলছে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় অস্ট্রেলিয়ার গবেষকদল পেয়েছেন চমকে দেয়ার মতো তথ্য। কতদিন পর্যন্ত একটি মোবাইলের স্ক্রিন, স্টেইনলেস স্টিল বা কাগজে করোনাভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে, সেই বিষয়েই বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন এই গবেষকরা।

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা CSIRO-এর গবেষকরা এমনই তথ্য দিচ্ছেন। গবেষকদের দাবি, প্রায় ২৮ দিন পর্যন্ত করোনাভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে ফোনের স্ক্রিন বা কাগজের নোটের উপর। সাধারণ ফ্লু এর জীবাণুর থেকে অনেকটাই বেশি এই করোনাভাইরাসের আয়ু।

গবেষকরা বলেছেন, তবে উষ্ণতা ২০ ডিগ্রির বেশি হলে করোনা ভাইরাস মরে যেতে পারে। সাধারণ ফ্লু এর ভাইরাস ২০ ডিগ্রির নিচে ১৭ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকে। কিন্তু করোনাভাইরাস ২০ ডিগ্রি নিচে তাপমাত্রায় বেঁচে থাকতে পারে প্রায় ২৮ দিন।

তবে তারা এটাও বলেছেন, তাপমাত্রার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই ভাইরাস উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে নিজের শক্তি হারিয়ে ফেলে। ৪০ ডিগ্রি বা তার থেকে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ভাইরাসের ক্ষমতা একেবারে কমে যায় বলে জানিয়েছেন তারা।

গবেষকরা বলেছেন ব্যাঙ্কের নোট থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায়, এটিএম, বিমানবন্দরের চেক ইন কিয়স্কের মতো জায়গাতেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এই সমস্ত জায়গায় নিয়মিত স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং সবসময় মাস্ক পরিধানের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষকরা।

প্লাস্টিক, কাগজের নোট, মুদ্রা বা কয়েন, মোবাইলের স্ক্রিনে ব্যবহৃত মসৃণ কাঁচেও এর উপস্থিতি ২৮ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে নোভেল করোনা ভাইরাস। ফলে নিয়মিত সাবান ও হ্যান্ডওয়াশে হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার করে মোবাইল ফোন, মুদ্রা ও নোট জীবাণুমুক্ত করতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিজ্ঞাণীরা। নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে ২০, ৩০ ও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কৃত্রিম শ্লেষ্মায় উপস্থিত শুকনো ভাইরাস পরীক্ষা করে এই ফল মিলেছে। বিজ্ঞানী মহলের সতর্কবাণী, গরমের তুলনায় শীতকালে বেশি ভোগাবে এই করোনা ভাইরাস। কারণ বিজ্ঞানীদের দাবি, ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় এই ভাইরাসের কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যায়। ফলে আসন্ন শীতে সাবধান।

Related posts

করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ১৩ লাখ

শাহাদাৎ আশরাফ

করোনায় মারা গেলেন মমতা ব্যানার্জির ভাই

Irani Biswash

করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৮৫

Irani Biswash

Leave a Comment

Translate »