অগাস্ট ৪, ২০২১
MIMS TV
জনদুর্ভোগ

বাজারে ভোক্তা অধিকারসহ বিভিন্ন মোবাইল টিম জোরদারের তাগিদ

বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে সবজির দাম বেশি। কাগজ কলমের মধ্যেও তদরকি শেষ। দেশে এতোগুলো মনিটরিং সেল। তারা কি করছে। বাজারে ভোক্তা অধিকারসহ বিভিন্ন মোবাইল টিম কোথায়? তারা কি করছে। বাজারে ৫শ টাকা নিয়ে এলেও একদিনের খাবার মিলছে না। জানিনা গরীব মানুষগুলো কিভাবে জীবন যাপন করছে। এভাবে চলা অসম্ভব। বন্যার অজুহাত দেখিয়ে সিন্ডিকেটে পণ্যের দাম বাড়িয়ে তোলা হয়েছে।

ঠিক এভাবেই শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা বাজারে বাজার করতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন।

সানোয়ার হোসেনের মতো বেশির ভাগ ক্রেতা এমন ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সেলিম নামে এক ক্রেতা বলেন, বাজারে এসে মোটেও শান্তি পাই না। সবকিছুর দাম অস্বাভাবিক। পরিবারে ৭ জন সদস্য। ৫শ টাকার সবজি দিয়ে এক বেলাও হয় না। সবজির এত দাম আমার ৫০ বছরের জীবনে আর দেখিনি।

তিনি আরও বলেন, অনেক দিন ধরেই সবজির দাম চড়া। এর মধ্যেই তেল, চিনি, আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের দাম বেড়ে গেল। আগে কখনো পুরাতন আলুর কেজি ৪০ টাকা কিনে খাইনি। এখন পুরাতন আলুর কেজি ৪৫ টাকা কিনে খেতে হচ্ছে। এক পোয়া কাঁচামরিচ কিনতে হচ্ছে ৭০ টাকা দিয়ে। ৫০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। সবকিছুর দাম এমন হলে আমরা চলবো কীভাবে?

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. চাঁন মিয়া বলেন, বন্যার পর টানা বৃষ্টিতে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ অনেক কম। এ কারণে সবজির দাম এমন চড়া। পরিস্থিতি যা তাতে জানুয়ারির আগে সবজির দাম কমার সম্ভাবনা কম। পাশাপাশি পাইকারী বাজারগুলোতে নানান ধরনের চাঁদাবাজি যেমন হিজড়া, সিটি করপোরেশনের ঝাড়ুদার, পুলিশসহ স্থানীয় রাজনৈতিককর্মীদের দৈনিক যে টাকা দিতে হয় তার প্রভাবও পড়ছে বাজার ধরে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা ও খিলগাঁও কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরকার ৩০ টাকা আলুর দাম বেঁধে দিলেও বেশিরভাগ ব্যবসায়ী তা মানছেন না। শুধু তা নয় ৫০ টাকার নিচে কচু পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না।

কারওয়ান বাজারের আলু ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের সব কথা কি মানুষ শোনে? আমরা ৩০ টাকা কেজি কিনতে না পারলে বিক্রি করবো কীভাবে? পাইকারিতে আমাদের প্রতিকেজি আলু কেনা পড়ছে ৪০-৪২ টাকা। অন্যান্য খরচ যোগ করে এক কেজি আলু ৫০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব না।

তিনি বলেন, শুধু দাম বেঁধে দিলে হবে না। আড়ৎ ও কোল্ড স্টোরে কড়া নজরদারি করতে হবে। আড়ৎ ও কোল্ড স্টোরে আলুর দাম কমলে, খুচরা বাজারেও দাম কমে যাবে।

এদিকে বাজারগুলোতে-পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এক হালি কাঁচকলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ঝিঙা, কাঁকরোল, ধুন্দুলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। বাজারে নতুন আসা ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে মুলা ও পেঁপে। এর মধ্যে মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।

এদিকে শিম, পাকা টমেটো, গাজর, বেগুন ও বরবটির সঙ্গে নতুন করে ১০০ টাকা কেজির তালিকায় নাম লিখিয়েছে উস্তা। এর মধ্যে পাকা টমেটো গত কয়েক মাসের মতো এখনো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের মতো শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। আর উস্তের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। বরবটির কেজি গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। বেগুনও গত সপ্তাহের মতো ৮০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। আমদানি করা বড় আকারের ভারতীয় পেঁয়াজের কেজির জন্যও গুনতে হচ্ছে ৮০ টাকা। গত মাসে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই এমন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ানবাজারে গরুর মাংস ৬০০ ও খাসির মাংস ৯০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর ব্রয়লার মুরগি ১৩০টাকা, পাকিস্তানি কর্ক ২২০ টাকা ও সাদা কর্ক ২০০ ও দেশি মুরগি ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ১১০ থেকে ১১৫ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ডিমের দাম বেড়ে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, বাজারে চালের দাম গেল সপ্তাহের মতোই স্থির রয়েছে। সরকার পাইকারি পর্যায়ে বা মিল গেটে চালের দাম নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে আগের দামেই চাল বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে মিনিকেট ৫৫ থেকে ৬০টাকা, আটাশ ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৬০ থেকে ৬২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর পাইকারি বাজারে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) মিনিকেট চালের দাম পড়ছে ২৭৫০ থেকে ২৮০০ টাকা, আটাশ ২৪০০ টাকা ও নাজিরশাইল ২৩০০ থেকে থেকে ৩০০০ টাকা।

Related posts

করোনা আপডেট, মৃত্যু ৩৮ জন

Irani Biswash

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩৩

Irani Biswash

তালেবানেরা সুসম্পর্ক গড়তে চান তুরস্কের সাথে

Irani Biswash

Leave a Comment

Translate »