অগাস্ট ১, ২০২১
MIMS TV
টেকনোলজি

রোবট বিপ্লব: সৃষ্টির সঙ্গে বিনাশও থাকবে

বিশ্বে ২০২৫ সাল নাগাদ মোট কর্মসংস্থানের অর্ধেক বা তারও বেশি দখলে নেবে মেশিনারি। যা প্রত্যক্ষ বিচারে উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য সম্ভাবনা। ঠিক তেমনি কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে অনেক পেশাজীবী শ্রেণি। উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রযুক্তির এমন ব্যবহার আমাদের সৃষ্টির বিপরীতে বিনাশ পরিস্থিতির মুখোমুখি করবে। উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক মুনাফার স্বার্থে মানিয়ে নিতে সব থেকে বেশি চ্যালেঞ্জে পড়বে কর্মজীবী শ্রেণি।

সম্প্রতি এক পূর্বাভাস মূলক গবেষণায় এ তথ্য তুলে এনেছে ওয়ার্ড ইকোনোমিক ফোরাম। থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এ সময়ের মধ্যে পূর্ণতা পাবে রোবট বিপ্লব। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে এক বিশাল পরিবর্তন আসবে সংস্থানে। নয় কোটি ৭০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা যেমন ওঠে এসেছে গবেষণায়, ঠিক এর বিপরীতে পুরোনো অনেক কর্মজীবী শ্রেণি হারিয়ে যাবার সম্ভবনার কথাও বলা হয়েছে।

যান্ত্রিকীকরণের ফলে সব থেকে বেশি কাজ হারানোর শঙ্কায় পড়বে শিফট ভিত্তিক, ম্যানুয়াল, প্রশাসনিক, ডাটা এন্ট্রির মতো সেক্টরগুলোতে কর্মরত ব্যক্তিরা।

এত শঙ্কার মধ্যেও আশার আলো উঁকি দিয়েছে ডাব্লিউইএফয়ের গবেষণায়। তারা বলছে, এ সময়ে তৈরি হবে নতুন নতুন কর্ম সম্ভাবনা। পাশাপাশি এসময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ওয়েব, সেন্সর, পরিবেশগত এবং সৃষ্ট ডাটা সমন্বিত বিশাল তথ্য ভাণ্ডারের বিগ ডাটা। সেখানেও তৈরি হবে বিশাল কর্মসংস্থান। এ সময়কে গ্রীন ইকোনমির সময়কাল হিসেবে বর্ণনা করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

ডাব্লিউইএফ তাদের এ গবেষণায় বিশ্বের ৩শটি বৃহৎ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ পরিচালনা করেছে। সার্ভেকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত ছিলেন ৮০ লাখ কর্মী।

অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ৫০ ভাগ কর্মচারী মনে করছে উৎপাদন ব্যবস্থায় মেশিনারির রোবটিক এমন ব্যবহারে উৎপাদন বর্তমান সময়ের তুলনায় অনেকাংশে বেড়ে যাবে। আবার ৪৩ শতাংশ এমন অনিবার্য ভবিষ্যতকে বাঁকা দৃষ্টিতে দেখছেন। তারা মনে করছে মেশিনারির ব্যবহার এমন বহুল আকারে শুরু হলে চাকুরি হারাতে পারেন তাদের অনেকে।

বৈশ্বিক করোনাভাইরাস মহামারির কারণে উৎপাদন ব্যবস্থায় যান্ত্রিকীকরণ আরও বেশি ত্বরান্বিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ডাব্লিউইএফ। তারা বলেছে, করোনায় উদ্ভুত পরিস্থিতিতে উৎপাদন ব্যবস্থায় মেশিনারির ব্যবহার বহুলাংশে বেড়েছে। সঙ্কট সামাল দিতে ব্যয় সংকোচ নীতি নিয়েছে উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো। কাজে রপ্ত হচ্ছে নতুন পদ্ধতির সঙ্গে।

এটা অটোমেশনের জন্য যেমন সুসংবাদ ঠিক বিপরীতে অবস্থা কর্মজীবী শ্রেণির। স্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে উৎপাদন ব্যবস্থায় মেশিনারির ব্যবহার বাড়তে থাকলে শ্রমিকরা যে ধরণের চ্যালেঞ্জে পড়তো, করোনা পরিস্থিতিতে হুট করে এমন পরিবর্তনে তারা দ্বিগুণ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি।

Related posts

ই-কমার্সে ঈর্ষণীয় সাফল্য, নিবন্ধন চান ফেসবুককেন্দ্রীক উদ্যোক্তারাও

শাহাদাৎ আশরাফ

আবেদনের সময়সীমা বাড়ল বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার

Irani Biswash

দেশে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ রোগি শনাক্ত, তথ্য নেই স্বাস্থ্য অধিদফতরে

Irani Biswash

Leave a Comment

Translate »